“বিয়ের প্রলোভনে অশ্লীল ভিডিও ও ব্ল্যাকমেলিং! “-‘অপারেশন মোহাব্বত’-এর কবলে পড়ে নিঃস্ব বহু যুবক

বিয়ের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে প্রেমের ফাঁদ, এরপর ব্ল্যাকমেলিং—এভাবেই দিনের পর দিন চলছিল এক সুসংগঠিত সাইবার প্রতারণা চক্র। ঝাঁসি পুলিশের অভিযানে অবশেষে পর্দাফাঁস হলো এই ‘অপারেশন মোহাব্বত’-এর। অভিযুক্তদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ টাকা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম।

অভিযুক্তরা মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত বৈবাহিক বিজ্ঞাপনগুলোকে টার্গেট করত। ৪০ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের নম্বর সংগ্রহ করে শুরু হতো ‘মিষ্টি কথোপকথন’। বিশ্বাস অর্জনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হতো সুন্দরী তরুণীর ছবি। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, এই ছবিগুলো আসল নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করা হতো।

প্রশিক্ষিত প্রতারকদের কবলে ভুক্তভোগীরা ঝাঁসির রায় কলোনির একটি বাড়ি থেকে এই চক্রটি পরিচালিত হতো। কল সেন্টারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ কাজ করত। কীভাবে গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করতে হয় এবং কতক্ষণ ফোনে আটকে রাখা যায়, তার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো তাদের। বন্ধুত্বের ভান করে ধীরে ধীরে কথোপকথন ব্যক্তিগত ও অশ্লীল দিকে নিয়ে যাওয়া হতো, যা গোপনে রেকর্ড করা হতো।

সর্বস্ব লুঠ ও ব্ল্যাকমেল ভুক্তভোগী যখনই বিয়ের চূড়ান্ত আলোচনার কথা বলতেন, তখনই শুরু হতো আসল খেলা। রেকর্ড করা সেই ব্যক্তিগত আলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য মধ্যবয়সী পুরুষ এই চক্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার যা যা: দীর্ঘদিন ধরে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে নাভাবাদ থানা ও সাইবার ক্রাইম টিম যৌথ অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে:

  • ১১ জনকে গ্রেফতার: ৯ জন মহিলা ও ২ জন মূল পাণ্ডা সোহিল সাহু ও হলধর সাহু।

  • উদ্ধার: ২৬টি মোবাইল ফোন, ম্যাকবুক, আইফোন এবং সোনা-রুপার গয়না।

  • লেনদেনের নথি: প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা লেনদেনের রেকর্ড সম্বলিত রেজিস্টার উদ্ধার হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূল অভিযুক্তরা ছত্তিশগড় থেকে এই প্রতারণার কৌশল শিখে ‘শাদি সংস্থা ডট কম’ নামে একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলেছিল। সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিবা নোমান জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তার সন্ধান চলছে।