সাইবার জালিয়াতির আঁতুড়ঘর দেশ! মাত্র ৬ মাসে খোয়া গেল ১০ হাজার কোটি, শীর্ষে কোন রাজ্য?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন লেনদেন যতটা সহজ হয়েছে, ততটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সাইবার জালিয়াতির ফাঁদ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন—এই মাত্র ছয় মাসে গোটা দেশে সাইবার জালিয়াতির কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ হারিয়েছেন ১০ হাজার ১৭৮.৯৭ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সাইবার অপরাধের তালিকায় দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে উত্তরপ্রদেশ। যোগীরাজ্যে এই ছয় মাসে রেকর্ড ১ লক্ষ ৮৫ হাজার সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মহারাষ্ট্র (১ লক্ষ ৫৮ হাজার) এবং কর্ণাটক (১ লক্ষ ২১ হাজার)। এরপর গুজরাট (৯৭,৯৩৭) এবং বিহারের (৯৩,১৩৭) পরই স্থান পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বিগত ছয় মাসে বাংলায় ৭২ হাজার ৪৩৯টি সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা রাজ্যের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দিল্লি (৬৪,৪৯৬), তামিলনাড়ু (৬৩,১১৬) এবং হরিয়ানাও (৫৮,৭২১) এই তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
অভিযোগের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ শীর্ষে থাকলেও, আর্থিক ক্ষতির নিরিখে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যে সাধারণ মানুষ খোয়ানো অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৬৩৭.৬৬ কোটি টাকা। কর্ণাটক (১,০৯৭.৩৭ কোটি টাকা) ও তামিলনাড়ু (৮৯৭.৭৯ কোটি টাকা) এই তালিকায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
সাইবার প্রতারকরা মূলত অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, লোন অ্যাপ জালিয়াতি এবং ফিশিং-এর মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। মোট ১২.৭১ লক্ষ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২.৮৬ লক্ষ অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং পদক্ষেপ এবং ২.৭০ লক্ষ অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘সিটিজেন ফিন্যান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে সক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের তৎপরতায় ২ হাজার ৯৬৮.৮৫ কোটি টাকা ফ্রিজ বা হোল্ড করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অর্থের মাত্র ২৯.১৭ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদী হিসাব বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে মোট ৬৪ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতি হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাঙ্ক ১০ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ফ্রিজ করতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মালিকের অ্যাকাউন্টে ফেরত এসেছে মাত্র ৩২৩ কোটি টাকা। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, একবার জালিয়াতির শিকার হলে টাকা উদ্ধার করা কতটা দুরূহ। তাই সাইবার জালিয়াতি রুখতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও ওটিপি (OTP) গোপন রাখাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা কবচ।