১৭ দিনের অনশনেই বিপন্ন জীবন! সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবনতিতে তোলপাড় দেশ, সরকার কি টলবে?

টানা ১৭ দিন ধরে চলা অনশনের জেরে প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ক্রমশই সংকটজনক হয়ে উঠছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনমের শরীর ভেঙে পড়ছে। তাঁর পেশির ভর মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং তিনি প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনশন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সোনমের শরীরের ওজন প্রায় ৮.৫ কেজি কমে গেছে। মঙ্গলবার তাঁর রক্তচাপ ছিল ১০৯/৭০ mmHg, যা অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দিনগুলিতে তাঁর গ্লুকোজের মাত্রাও আশঙ্কাজনকভাবে ৬৭-এর নিচে নেমে এসেছিল।

নিজের স্বাস্থ্যের এই বেহাল দশা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক তাঁর অবস্থানে অটল। অভিজিৎ দপকে যখন তাঁকে অনশন তুলে নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেন, তখন সোনম অত্যন্ত শান্তভাবে জবাব দেন, “আমাকে অনশন শেষ করার কথা বলো না। বরং সরকারকে জিজ্ঞেস করো, তারা কেন আলোচনার টেবিলেও বসছে না।” তাঁর এই অদম্য লড়াই এখন দেশের যুবসমাজকে একসুতোয় বেঁধেছে।

সোনমের এই শারীরিক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র আবেগঘন বার্তায় সোনমকে অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সোনম স্যার, সরকার আপনার জীবনের তোয়াক্কা না করলেও, আমাদের কাছে আপনি অমূল্য। দয়া করে অনশন তুলে নিন।” পাশাপাশি, আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিশী এবং সিপিআই(এম) সাংসদ অমরা রাম অনশনস্থলে পৌঁছে সংহতি জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও ফোন করে সোনমকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন এবং তাঁর আন্দোলনের প্রতি শিবসেনার পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০ জুন থেকে সিজেপি-র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ।

আন্দোলনকারীরা আগামী ২০ জুলাই, অর্থাৎ সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন, যন্তরমন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। অভিজিৎ দপকে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এই বিষয়টিকে যেন কোনোভাবেই ‘অহংকারের লড়াই’ হিসেবে দেখা না হয়। বরং স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরকার অবিলম্বে আলোচনার পথ প্রশস্ত করুক, যাতে একজন মহান কর্মীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।