সাইকেল রাখা নিয়ে বচসা, দক্ষিণ দমদমে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ! প্রোমোটারের অফিসে ভাঙচুর, রণক্ষেত্র ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড রবিবার দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল। সাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামান্য বচসা মুহূর্তের মধ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তন্দ্রা সরকারের অনুগামীরা প্রোমোটার তাপস রায় ও তাঁর ছেলে শঙ্কর রায়কে মারধর করেছে। শুধু তাই নয়, তাপস রায়ের অফিস ভাঙচুর এবং বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে পূর্ব সিঁথি রোডে দুপুর ১২টা নাগাদ। এলাকার লোকজনের দাবি, একটি সাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে প্রোমোটার তাপস রায়ের লোকজনের সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুগামীদের বচসা শুরু হয়। সেই বচসা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাঙচুর করা হয় প্রোমোটারের অফিস।

ঘটনার পর নাগেরবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রোমোটার তাপস রায়। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি অফিস থেকে বেরিয়ে সবাইকে আটকানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওদের লোকজন এসে আমার অফিস ভেঙে দেয়। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।” এলাকার বাসিন্দারা জানান, তাপস রায়ের সঙ্গে স্থানীয় কিছু তৃণমূল কর্মীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। সেই চাপা বিরোধই এদিন প্রকাশ্যে চলে আসে।

পাল্টা অভিযোগ কাউন্সিলরের:
অন্যদিকে, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তন্দ্রা সরকার প্রোমোটারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, পুরো ঘটনাটাই ‘সাজানো নাটক’। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলের একজন বর্ষীয়াণ কর্মী রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ফিরছিলেন। তিনি সাইকেল রেখে ফোনে কথা বলছিলেন। কিন্তু প্রোমোটারের ছেলে আচমকা তাঁকে আক্রমণ করে এবং বুকে ঘুষি মারে। প্রোমোটারের গায়ে কেউ হাত তোলেনি।”

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পারদও তীব্র। পুলিশ জানিয়েছে, তৃণমূল কাউন্সিলর এবং প্রোমোটার, দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।