শ্রীলঙ্কা নীতি ব্যর্থ, রাজীব গান্ধীর পতনের জন্য সেনা ও ইন্টেলিজেন্সকেই দায়ী করলেন মণিশঙ্কর আয়ার

জয়পুর: প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার শ্রীলঙ্কা নীতি ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, রাজীব গান্ধী শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য যে প্রয়োজনীয় মিশন নিয়ে এগিয়েছিলেন, সেখানে গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনী তাঁকে “নিরাশ করেছিল”।

খুশবন্ত সিং লিটফেস্টে “ভারতের ভবিষ্যতের জন্য রাজীব গান্ধীর উত্তরাধিকারের পুনর্বিবেচনা” শীর্ষক একটি অধিবেশনে আয়ার ১৯৮৭ সালের চুক্তি এবং ভারতীয় শান্তিকর্মী বাহিনী (IPKF) মোতায়েন করার পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কার বিভাজন রোধ করতে এবং তামিলনাড়ুতে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া রুখতে জরুরি ছিল।

আয়ারের কথায়, “রাজীব জানতেন যে শ্রীলঙ্কার বিভাজন ভারতেও বিভাজন ঘটাতে পারে।” তিনি আরও বলেন যে, সেনাবাহিনী এই চুক্তিতে সম্মত ছিল এবং শান্তিকর্মীদের কাজ ছিল কলম্বোর অনুরোধে দেশকে স্থিতিশীল করা, দখল করা নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ত্রুটির কারণে অপারেশনটি ভুল পথে গিয়েছিল এবং ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু অংশ পরিস্থিতি বুঝতে ভুল করেছিল।

“সীমান্ত জ্বলছে, দেশ ছারখার!”

খুশবন্ত সিং সাহিত্য উৎসব, ২০২৫-এ বক্তৃতা করার সময় আয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ‘হিলিং টাচ’ (healing touch) নীতি প্রসঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জওহর সরকার যখন প্রশ্ন করেন, তখন আয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আয়ার অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার ভারতের ভৌগোলিক এবং সামাজিক প্রান্তগুলিকে উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের সীমান্তগুলো জ্বলছে। থর মরুভূমিতে আমাদের এখনও সমস্যা রয়েছে। পাঞ্জাবে বিজেপি নিজেকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে পরিস্থিতি এখনও ফুটছে। লাদাখে তো পরিস্থিতি আর ফুটছে না; তা বিস্ফোরণের পর্যায়ে চলে গেছে।”

তিনি পাঞ্জাব, আসাম, মিজোরাম, দার্জিলিং এবং কাশ্মীর চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—তিনি ধারাবাহিকভাবে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতেন। আয়ার বলেন, “সব চুক্তির মধ্যে একটি বিষয় সাধারণ ছিল, তা হলো—রাজীব গান্ধী পুরো দেশের স্বার্থে কংগ্রেসের তাৎক্ষণিক দলীয় স্বার্থকে উৎসর্গ করেছিলেন।”