সাইকেল মিস্ত্রি থেকে প্রাসাদ মালিক, ইডি-র স্ক্যানারে ঝাড়খণ্ডের বালি মাফিয়া

একসময়ের সাধারণ সাইকেল সারাইয়ের মিস্ত্রি থেকে ঝাড়গ্রামের বালি চক্রের ‘বেতাজ বাদশা’ হয়ে ওঠার রহস্যের খোঁজে এবার মাঠে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার গোপীবল্লভপুরের নয়াবসন্ত এলাকায় শেখ জাহিরুল আলি ওরফে জহরুলের বিলাসবহুল বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি-র একটি দল। সূত্রের খবর, বালি পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডি-র এই অভিযান সামনে আসতেই জাহিরুলের দ্রুত উত্থান আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সাইকেল মিস্ত্রি থেকে ‘প্রাসাদ’-এর মালিক
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জাহিরুল একসময় গোপীবল্লভপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট সাইকেল সারানোর দোকান চালাতেন। তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই সাধারণ। তবে গত ছয়-সাত বছর আগে তিনি বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপরই তাঁর ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। রাতারাতি তার একটি কুঁড়েঘর থেকে তিনতলা প্রাসাদ তৈরি হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সুবর্ণরেখা নদীর প্রতিটি বালি খাদানে তার প্রভাব রয়েছে। রাত হলেই তিনি সক্রিয় হয়ে উঠতেন বালি ব্যবসায়, আর দিন কাটাতেন বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।
কেন ইডি-র নজর?
জানা গেছে, জাহিরুল প্রথমে জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে ভিলেজ পুলিশের চাকরি পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে সেই কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ইডি সূত্রের খবর, কলকাতার একটি সংস্থার সঙ্গে জাহিরুলের মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য ইডি-র হাতে আসে, যার পরেই তিনি তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে চলে আসেন।
বর্তমানে ইডি-র তদন্তকারী দল জাহিরুলের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। যদিও ইডি এখনো নিশ্চিত করেনি, তবে জানা যাচ্ছে তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে।