সাইকেলে মন্ত্রী, পায়ে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী! মোদীর এক ডাকেই কি বদলে যাচ্ছে দেশের ভিআইপি কালচার?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জ্বালানি বাঁচাও’ বার্তা এখন দেশজুড়ে গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র—সর্বত্রই ভিআইপি কালচারে পড়েছে কোপ। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলারা এখন রাস্তায় নামছেন সাইকেলে কিংবা পায়ে হেঁটে।

সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি রাজ্যে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) সংস্কৃতি ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বড় বড় সংস্থাগুলোতে সপ্তাহে ২ দিন বাড়ি থেকে কাজের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ মিটিং ভার্চুয়ালি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় অর্ধেক করে দিয়েছেন যোগী।

পিছিয়ে নেই দিল্লিও। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শুরু করেছেন ‘মেরা ভারত মেরা অবদান’ অভিযান। দিল্লিতেও সপ্তাহে ২ দিন সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরবেশ ভার্মা খোদ সাইকেলে চেপে পৌঁছেছেন এনডিএমসি-র বৈঠকে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে অফিস যেতে। অন্যদিকে, গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত ঘোষণা করেছেন, তিনি এখন থেকে হেলিকপ্টারের বদলে সাধারণ ট্রেন বা বাসে যাতায়াত করবেন। মহারাষ্ট্রেও এখন থেকে বিমান ব্যবহারের আগে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের বিশেষ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কৃচ্ছ্রসাধন আর সাধারণের স্বার্থে ত্যাগের মানসিকতা ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করছে।