‘সাংবাদিকদের উপর হামলা বরদাস্ত নয়!’ গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগ, গ্রেফতার ১১ জন

সাংবাদিকদের কাজ হলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানুষের সামনে নিখাদ সত্য তুলে ধরা। কিন্তু গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদী কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, প্রতিবাদ কর্মসূচির আড়ালে বিক্ষোভকারীদের একাংশ আচমকাই চড়াও হয় সাংবাদিকদের উপর। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন ‘এই সময় ডিজিটাল’-এর এডিটর শিলাদিত্য কর সহ আরও পাঁচজন সংবাদকর্মী।
ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে তদন্তে গতি এনে রাজ্যের সদ্য কার্যকর গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগ করে শনিবার রাত পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের এই ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।
ঘটনাপঞ্জি: হামলা থেকে গ্রেপ্তারির টাইমলাইন
শুক্রবার বিকেল (ডোরিনা ক্রসিংয়ে হামলা): নিট আন্দোলন চলাকালীন লাইভ সম্প্রচারের ঠিক সময়ে ‘এই সময় ডিজিটাল’-এর এডিটর শিলাদিত্য করকে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে আক্রান্ত হন আরও কয়েকজন সাংবাদিক। জখম অবস্থায় তাঁদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার রাত (হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী ও বিশিষ্টরা): ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, শিলাদিত্য করের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন। ওই রাতেই হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, রাজ্যের আইন প্রতিমন্ত্রী এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
শনিবার (বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তা): পরদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ধর্মতলার এই ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। হেয়ার স্ট্রিট এবং এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা রুজু হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা কিংবা আন্দোলনের নামে গুন্ডামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে ছয় আহত সাংবাদিকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তাঁরা হলেন:
শিলাদিত্য কর
দীপঙ্কর দাশগুপ্ত
মানস পাত্র
সুমন মহাপাত্র
ঋক পুরকায়স্থ
কৃষ্ণেন্দু মজুমদার
৭০ জন চিহ্নিত, রাজ্যে প্রথম গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগ
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মূল ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু বহিরাগত ও অসৎ উপাদান ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে এই তাণ্ডব চালিয়েছিল।
সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে রাজ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া কঠোর গুন্ডাদমন আইনের প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।