রাজ্যের মহিলাদের জন্য এক বড় সুখবর। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এই পরিষেবা চালুর আগে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করতে পরিবহণ দফতর কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। বাসের কন্ডাক্টর ও চালকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক নজরদারির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন।
সুরক্ষায় বিশেষ নজর:
মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পরিবহন দফতর জানিয়েছে, যেসব সরকারি বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেগুলিতে দ্রুত ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। যেসব ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে আছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দফতরের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে এই নজরদারি চালানো হবে। বাসের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর লিখে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বাসে মহিলা যাত্রীদের সুবিধার খোঁজখবর নিতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ চালানো হবে।
বিনামূল্যে যাতায়াতের পদ্ধতি:
সরকারের পক্ষ থেকে মহিলাদের জন্য একটি কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। তবে স্মার্ট কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা তাঁদের যেকোনো একটি বৈধ ফটো আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়েই সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পেনশন নথি এবং স্কুল-কলেজ বা সরকারি চাকরির পরিচয়পত্র। কন্ডাক্টর এই পরিচয়পত্র যাচাই করে মহিলা যাত্রীকে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা ‘থার্মাল পেপার টিকিট’ দেবেন।
কোন কোন বাসে সুবিধা মিলবে:
কলকাতা স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (CSTC), ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (WBTC), ওয়েস্ট বেঙ্গল সারফেস ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (WBSTC), নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (NBSTC) এবং সাউথ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (SBSTC)-এর অধীনে চলাচলকারী সমস্ত সরকারি বাসে এই সুবিধা কার্যকর হবে। পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই মহিলা যাত্রীদের দেখে বাস থামানো যাবে না বা এড়ানো যাবে না। প্রতিটি স্টপেজে মহিলা যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। মহিলাদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখাই এই সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।





