সরকারি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা তুলল বিজেপি! রসিদ এল দলের তহবিলের, NaMo অ্যাপের বড়সড় জালিয়াতি ফাঁস, নড়ে গেল কেন্দ্র!

সরকারি প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে। একাধিক তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আবেদনের উত্তরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দ্য ওয়্যার-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের প্রবীণ সাংবাদিক ও সত্যম টিভির নিউজ এডিটর বি. আর. অরবিন্দাক্ষণ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির NaMo অ্যাপ এবং narendramodi.in পোর্টালে এখনও পর্যন্ত ‘স্বচ্ছ ভারত’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং ‘কিষাণ সেবা’-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে আর্থিক অনুদান সংগ্রহের অপশন দেখানো হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই প্রকল্পগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের কোনও অনুমতি বিজেপিকে দেওয়া হয়নি।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে জে.পি. নাড্ডা ‘মাইক্রো ডোনেশন ক্যাম্পেইন’ শুরু করলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নিজে ১,০০০ টাকা অনুদান দিয়ে সমর্থন জানান। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন এই পোর্টালে গিয়ে সরকারি প্রকল্প বেছে অনুদান দেন, তখন তাদের ইমেলে যে রসিদ আসে, তাতে দেখা যায় সেই অর্থ আসলে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তহবিলে জমা পড়েছে।

সাংবাদিক অরবিন্দাক্ষণ নিজে তিনটি প্রকল্পে ১০০ টাকা করে অনুদান দিয়ে দেখেন রসিদ এসেছে বিজেপির নামে। এরপর তিনি বিভিন্ন মন্ত্রকে RTI করেন। জল শক্তি এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানায়, তাদের প্রকল্পগুলির জন্য NaMo অ্যাপ বা অন্য কোনও মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের কোনও অনুমতি বিজেপিকে দেওয়া হয়নি। কৃষি মন্ত্রকও একই কথা জানায়। এর থেকেও গুরুতর তথ্য উঠে আসে যখন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (PMO) জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নামে কোনও সরকারি অ্যাপ নেই এবং NaMo অ্যাপের সঙ্গে PMO-র কোনও নথিবদ্ধ যোগাযোগ নেই।

এই তথ্যগুলো সামনে আসার পরই অরবিন্দাক্ষণ চেন্নাই পুলিশ কমিশনার ও সিবিআই দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিকদের ভুল পথে পরিচালিত করে সরকারি প্রকল্পের নামে অনুদান আদায় করা হয়েছে, অথচ অর্থ গেছে একটি রাজনৈতিক দলের তহবিলে। বিজেপি সভাপতি নাড্ডাকে চিঠি দিয়ে সংগৃহীত অর্থের হিসাব জানতে চাইলেও তিনি কোনও উত্তর পাননি।

অরবিন্দাক্ষণ মনে করেন, এই ঘটনায় ঠকবাজি, অপরাধ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র, এমনকি প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট-এর ধারাতেও মামলা হতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা না নেয়, আমি আদালতে যাব।” এই বিষয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তর ও জে.পি. নাড্ডার কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।