২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এল মোদী সরকার। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মহার্ঘ ভাতা (DA) আরও ২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ বর্তমান ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে সরাসরি ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ ইতিমধ্য়েই এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা বা অফিসিয়াল অর্ডার জারি করে দিয়েছে। তবে এই খুশির খবরের মাঝেই কর্মচারীদের মনে একটাই প্রশ্ন—এই বাড়তি টাকা কি এপ্রিল মাসের বেতনের সাথেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? নাকি মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
সাফল্য ও প্রত্যাশার এই আবহে অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AI-NPS-EF)-এর জাতীয় সভাপতি মনজিৎ প্যাটেল একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু এপ্রিল মাসের বেতন তৈরির প্রক্রিয়া বা স্যালারি প্রসেসিং ইতিমধ্য়েই শুরু হয়ে গেছে, তাই এই মাসের বেতনে বাড়তি ডিএ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মে মাসের বেতনের সঙ্গেই এই বর্ধিত ডিএ এবং বকেয়া টাকা যোগ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা এক বিশাল অঙ্কের টাকা হাতে পেতে চলেছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, মে মাসের বেতনের সাথে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল—এই চার মাসের বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear) একসাথেই মিটিয়ে দেবে সরকার। এর ফলে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৮ লক্ষ পেনশনভোগী সরাসরি লাভবান হতে চলেছেন। সব মিলিয়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবেন। সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মূল বেতন বা পেনশনের ওপর এখন থেকে ৬০ শতাংশ হারে ডিএ/ডিআর (DR) কার্যকর হবে।
সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারির ডিএ বৃদ্ধি মার্চের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা করে দেওয়া হয়, কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ডামাডোলের কারণেই এই বিলম্ব। উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ গত বছরই শেষ হয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্য়েই অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করেছে। এই নতুন কমিশন আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সেই সুপারিশ জমা পড়বে। ইতিমধ্যেই দেরাদুন এবং দিল্লিতে কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বেতন কমিশনের বৈঠক শুরু হয়ে গেছে, যা আগামীতে কর্মীদের বেতন কাঠামোয় আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





