সরকারি কর্মচারীদের ওপর ‘স্মার্ট মিটার’ চাপানোর নির্দেশ! হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার বসানোর সরকারি নির্দেশকে ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জোড়া মামলা। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র কর্মচারীদের ওপর এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া একপেশে, বেআইনি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
কেন এই মামলা?
কো-অর্ডিনেশন কমিটির বক্তব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারী কো-অর্ডিনেশন কমিটির অভিযোগ, বিদ্যুতের ঘাটতির দায় কেন সরকারি কর্মচারীরা নেবেন? তাদের দাবি, কেউ স্মার্ট মিটার নেবেন কি নেবেন না, তা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। সরকার জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর মতে, এটি আসলে বিদ্যুতের বেসরকারিকরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ।
আইনি যুক্তি: আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মাধ্যমে দায়ের করা অপর একটি মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো কর্মীর নিজের নামে স্মার্ট মিটার না থাকলে তিনি কী করবেন? শ্বশুরবাড়ি বা বাবার বাড়িতে স্মার্ট মিটার না থাকলে তার দায়ভার কীভাবে তিনি বহন করবেন? এহেন নির্দেশিকাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন মামলাকারীরা।
আদালতের অবস্থান: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা এবং বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর বেঞ্চে পৃথকভাবে এই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি শোনার অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ২৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট: স্মার্ট মিটার বসানোর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বামপন্থী সংগঠনগুলো যেমন এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে, তেমনই বিজেপির পক্ষ থেকেও এই নির্দেশকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের দাবি, স্মার্ট মিটারের নামে সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি বা অতিরিক্ত খরচ চাপানোর কোনো অধিকার সরকারের নেই।