ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিলন! রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ইলেকট্রিক বাইক ‘ফ্লাইং ফ্লি C6’ পথে নামল

বাইকপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতীয় রাস্তায় আত্মপ্রকাশ করল রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল—‘ফ্লাইং ফ্লি C6’ (Flying Flea C6)। ১৯ জুন থেকে বেঙ্গালুরুতে এই বাইকের ডেলিভারি শুরু হয়েছে, যা রয়্যাল এনফিল্ডের বৈদ্যুতিক যুগের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

ফ্লাইং ফ্লি C6-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • রেঞ্জ ও ব্যাটারি: এই বাইকটিতে রয়েছে ৩.৯১ kWh-এর শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এটি সর্বোচ্চ ১৫৪ কিলোমিটার (IDC সাইকেল অনুযায়ী) পর্যন্ত চলতে সক্ষম।

  • গতি: এই বাইকটি সর্বোচ্চ ১১৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ছুটতে পারে। শূন্য থেকে ৬০ কিমি গতিবেগ তুলতে সময় নেয় মাত্র ৩.৭ সেকেন্ড।

  • চার্জিং: সাধারণ ১৬-অ্যাম্পিয়ার ওয়াল সকেটে এটি চার্জ হতে সময় নেয় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। এছাড়া দ্রুত চার্জিংয়ের মাধ্যমে ২০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ৬৫ মিনিট।

  • স্মার্ট ফিচার: বাইকটিতে থাকছে ৩.৫ ইঞ্চির গোলাকার টিএফটি (TFT) টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, ডুয়াল চ্যানেল এবিএস (ABS), ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং একাধিক রাইডিং মোড, যা চালককে নিজের পছন্দমতো বাইকের পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা দেবে।

দাম ও কেনার সুবিধা: রয়্যাল এনফিল্ড এই বাইকটি দুটি মডেলে বাজারে এনেছে: ১. আউটরাইট কেনা: সরাসরি বাইকটি কিনতে খরচ পড়বে ২.৭৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)। ২. ব্যাটারি-অ্যাজ-এ-সার্ভিস (BaaS): এই মডেলে বাইকের দাম পড়বে ১.৯৯ লক্ষ টাকা, যেখানে ব্যাটারির জন্য আলাদাভাবে চার্জ দিতে হবে। গ্রাহকদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক স্বস্তি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্যারাট্রুপারদের ব্যবহারের জন্য তৈরি সেই বিখ্যাত ‘ফ্লাইং ফ্লি’ মোটরসাইকেল থেকেই এই মডেলটির অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। পুরনো দিনের সেই ক্লাসিক ডিজাইনের সাথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়েই তৈরি হয়েছে এই নতুন ইলেকট্রিক সি৬।