সমতলেও সম্ভব কমলা চাষ, অশোকনগরের কৃষকের অভিনব প্রচেষ্টায় সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে ফলছে সুস্বাদু কমলালেবু

কমলালেবু সাধারণত পাহাড়ি এলাকার ফসল। সমতলে, বিশেষ করে কলকাতা বা তার আশেপাশে চাষ করলে ছোট আকারের টক কমলা হয়, এমনটাই প্রচলিত ধারণা। অনেকে আবার মনে করেন, প্রবল বর্ষার কারণে সমতলে কমলার চাষ মুশকিল। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের এক কৃষক সেই ধারণাগুলিকেই ভুল প্রমাণ করে তৈরি করেছেন এক বিশাল কমলালেবুর বাগান।

অসম্ভবকে সম্ভব করলেন নারায়ণ মণ্ডল:

অশোকনগরের সেনডাঙা এলাকার কেওটসাহা গ্রামের সুধীর নার্সারির মালিক নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল তাঁর প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। চাষি পরিবারের ছেলে নারায়ণবাবু ছেলেবেলা থেকেই বাবার সাথে চাষের কাজে হাত লাগাতেন। দুই বছর আগে ছকভাঙা কিছু করার ইচ্ছায় তিনি কমলালেবু চাষ শুরু করেন।

  • জৈব পদ্ধতিতে চাষ: নারায়ণবাবু নিজের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারেন, কোনো রকম রাসায়নিক সার ছাড়া জৈব পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রবল বর্ষাতেও গাছ নষ্ট হয় না এবং সমতলেও সুস্বাদু কমলা ফলানো সম্ভব।

  • বিবিধ চারা সংগ্রহ: এই ভাবনাকে সত্যি করতে তিনি দার্জিলিং, ভুটান-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮-১০ রকমের কমলার চারা এনে বাগান করেন।

পর্যটকদের ভিড় ও নতুন আকর্ষণ:

প্রথমে স্থানীয় মানুষজন তাঁর এই অভিনব প্রচেষ্টাকে ব্যঙ্গ করলেও, গাছে ফল ধরার পর সেই মিষ্টি ও সুগন্ধি লেবু খেয়ে সকলেই মুগ্ধ হন।

  • বিক্রির পদ্ধতি: এখন তিনি আর স্থানীয় বাজারে যান না। লোকমুখে তাঁর বাগানের কথা ছড়িয়ে পড়ায় শুধুমাত্র বাগানে আগত পর্যটকদের কাছেই লেবু ও চারাগাছ বিক্রি করেন।

  • অন্যান্য ফল: তাঁর বাগানে কমলালেবু ছাড়াও অ্যাভোকাডো, পারসিমন এমনকি আপেল গাছও রয়েছে।

  • নতুন পর্যটন কেন্দ্র: নারায়ণবাবু নিজে হাতে গাছের পরিচর্যা করেন এবং পর্যটকদের বাগান ঘুরিয়ে দেখান। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের এই কমলা বাগানে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। এই সময়ে কমলা বাগানে গিয়ে ছবি তোলাই এখন মানুষের কাছে এক নতুন আকর্ষণ।