ভোটার তালিকায় নাম তোলার সমস্যা মিটল সোনাগাছিতে, দুর্বারের সদস্যপদ থাকলেই এন্যুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে পারছেন যৌনকর্মীরা

সরকারি অনুদান পাওয়ার পরেও বহু বাড়ি অসম্পূর্ণ। এবার কড়া পদক্ষেপ কাটোয়া পুরসভার। আবাস যোজনা প্রকল্পে টাকা পাওয়ার পরেও বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ না করায় চরম অসন্তোষ জানিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। সরকারি অনুদান হাতে এলেও বহু উপভোক্তা বাড়ি বানানোর কাজ মাঝপথে ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নথি সংক্রান্ত জটিলতা:
বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) এন্যুমারেশন ফর্ম পূরণে সবচেয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছিল যৌনকর্মীদের মধ্যে। কারণ তাঁদের অধিকাংশেরই বাবা-মায়ের নথি কাছে নেই। দীর্ঘদিন আগে বাড়ি ছাড়ার ফলে সেই নথি সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব ছিল।
দুর্বার-এর ভূমিকা ও সমাধান:
সোনাগাছি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লির কর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, কমিটির সদস্যপদ থাকলেই যৌনকর্মীরা এন্যুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে পারছেন, সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োজনীয় অন্য কোনও নথি লাগছে না।
বিএলও-দের সহায়তা: কমিটির সম্পাদিকা বিশখা লস্কর জানান, জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরে স্থানীয় বিএলও-রা ডোর টু ডোর ভিজিট করে এন্যুমারেশন ফর্ম দিয়ে যান এবং তাঁরা সহায়তা পেয়েছেন।
সদস্য সংখ্যা: সোনাগাছি-সহ রাজ্যের ৫০টিরও বেশি যৌনপল্লির প্রায় ৪০ হাজার যৌনকর্মী দুর্বারের সদস্য।
ফর্ম জমা: এই ৪০ হাজার যৌনকর্মীর মধ্যে ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যেই এন্যুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করে স্থানীয় বিএলও-কে হস্তান্তর করেছেন। বাকিদের সমস্যাও দ্রুত মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যাম্পের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব:
নথি সমস্যার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যৌনকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, যৌনপল্লিগুলিতে ক্যাম্প করে এই সমস্যার সমাধান ঘটানো হবে। কিন্তু দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সম্পাদিকা বিশখা লস্কর দাবি করেছেন, জটিলতার কারণে সেই ক্যাম্প বসেনি।
ভোটার তালিকায় নাম রাখার নিয়ম:
বিশখা লস্কর আরও জানিয়েছেন, যেহেতু অনেক যৌনকর্মী কলকাতা থেকে বিভিন্ন জেলায় চলে যান এবং তাঁদের দু’জায়গাতেই ভোটার তালিকায় নাম থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাই দুর্বারের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, যে কোনও এক জায়গায় এন্যুমারেশন ফর্ম জমা দিতে হবে।
যে সমস্ত যৌনকর্মীর ২০২৫ সালের ড্রাফট ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তাঁরা অধিকাংশই এন্যুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যৌনকর্মীরা দুর্বারের আইডেন্টি কার্ডের পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে যে সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন সেগুলোরও উল্লেখ করেছেন।