আরামবাগ BDO অফিসে ভোট সংক্রান্ত নথি ঘাঁটছে বাইরের লোক! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঞ্চল্য

আবাস যোজনার পর এবার এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে হুগলির আরামবাগে ফের বড়সড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে যে আরামবাগ বিডিও (BDO) অফিসে ভোট সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি, বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন সংক্রান্ত কাজ, সরকার অনুমোদিত কর্মী (BLOs) ছাড়া বাইরের লোক, অস্থায়ী কর্মী এবং এমনকি কিশোর-যুবকেরা সামলাচ্ছিলেন।

বিজেপির অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিও:

বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কিশোর-যুবকদের কেউ কেউ আইপ্যাকের (I-PAC) কর্মী বা ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কর্মী ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু আরামবাগে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা গেছে।

সাংবাদিকদের দাবি ও গোপনীয়তা:

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, তাঁরা যখন মোবাইল ক্যামেরা তোলেন, অফিসের ভিতরে উপস্থিত বেশ কয়েকজন যুবক ও যুবতী তড়িঘড়ি মুখ লুকিয়ে বেঞ্চের নিচে নেমে পড়েন। এমনকি ঠিক সেই সময় বিডিও নিজে নাকি তাঁদের ঢেকে দিতে এগিয়ে যান।

  • কেন গোপনীয়তা: এই দৃশ্যে সাধারণ মানুষের মনে এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে: কেন বেআইনিভাবে এত সংবেদনশীল তথ্য বাইরের লোক নিয়ন্ত্রণ করছে? এবং যদি তাঁরা সরকারি কর্মী হন, তাহলে প্রেসকে দেখে মুখ ঢাকতে গেলেন কেন?

  • অফিসের অস্বীকার: বিডিও অফিসের তরফে যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকদের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী দাবিগুলি প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করেছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঝুঁকি:

আরামবাগ লোকসভা আসনটি অতীতে দু’বার অল্প ব্যবধানে বিজেপির কাছে হাতছাড়া হয়েছে। এই আসনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বহুবার সংগঠনগত দুর্বলতার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বেআইনিভাবে ভোট-সম্পর্কিত তথ্য ব্যবহারের অভিযোগটি নির্বাচনী ম্যানিপুলেশনের (Electoral Manipulation) ঝুঁকি নিয়ে এসেছে, যা চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রশাসনিক মহলের একটি অংশের দাবি, এই অভিযোগ সত্য হলে তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) এবং নির্বাচন কমিশনের অপারেশনাল প্রটোকলের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করবে।

এখন নজর কমিশনের দিকে:

সাংবাদিকদের উপস্থিত বুদ্ধিতে এই ভিডিওগুলি সামনে এসেছে। তাঁরা জানান, “অফিসে ঢুকতেই আমরা দেখি একদল অচেনা যুবক SIR ফর্ম সাজাচ্ছে। ছবি তুলতেই সবাই মুখ ঢাকছে। কেন তারা সরকারি কাজে ছিল, সেটাই বড় প্রশ্ন।” আরামবাগের এই ঘটনা এখন নতুন এক নির্বাচনী বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কত দ্রুত কী ব্যবস্থা নেয়।