সপ্তাহের শুরুতেই চরম দুর্ভোগ! ক্যাব চালকদের ১২ ঘণ্টার চাকা বন্ধ আন্দোলনে দিশেহারা সাধারণ যাত্রীরা

সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনেই চরম জনদুর্ভোগের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধি না হওয়া, লাগাতার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সিএনজি সংকট এবং কমার্শিয়াল পারমিট ছাড়াই দেদার নন-কমার্শিয়াল বাইক চলাচলের প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার সম্পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ক্যাব চালক সংগঠনগুলি। এর জেরে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
নিত্যযাত্রীদের একটি বড় অংশের মতে, বাস, মেট্রো বা ট্রেনের উপচে পড়া ভিড় এড়াতে অনেকেই অ্যাপ ক্যাবের ওপর ভরসা করেন। ডোর-টু-ডোর পরিষেবার সুবিধা থাকায় দৈনন্দিন যাতায়াতে ক্যাবের কদর ব্যাপক। কিন্তু সপ্তাহের একেবারে শুরুর দিনেই এই আকস্মিক ধর্মঘটের ফলে হাজার হাজার অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ গভীর সংকটে পড়েছেন। রাস্তায় বেরিয়েও অ্যাপ সার্চ করে গাড়ি না পাওয়ায় এবং দ্বিগুণ ভাড়ার ফাঁদে পড়ে চরম নাভিশ্বাস উঠেছে যাত্রীদের।
আন্দোলনকারী ক্যাব চালকদের স্পষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়ার হার সংশোধিত না হলেও বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পাশাপাশি সিএনজি গ্যাসের তীব্র ঘাটতি তাদের দৈনন্দিন উপার্জনে বড় ধরনের কোপ বসাচ্ছে। উপরন্তু, কোনো রকম কমার্শিয়াল পারমিট বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স ছাড়াই একাধিক নন-কমার্শিয়াল বাইক অবাধে যাত্রী পরিবহন করছে, যার ফলে আইন মেনে চলা বৈধ ক্যাব চালকরা মারাত্মকভাবে মার খাচ্ছেন এবং তাদের ব্যবসায় ব্যাপক ধস নামছে। এই বেআইনি বাইক ট্যাক্সি পরিষেবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ চালকরা।
এদিকে জ্বালানি বাজারে ভারসাম্যতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারও একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের জ্বালানি নীতির ওপর। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজার সুরক্ষিত রাখতে গত ১৬ জুলাই থেকে ডিজেল, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) এবং পেট্রোলের রফতানি শুল্কে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল ও এটিএফ-এর রফতানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হলেও দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পেট্রোলের রফতানি শুল্ক কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সার্বিক এই পরিস্থিতিতে একদিকে জ্বালানি নীতির পরিবর্তন এবং অন্যদিকে চালকদের এই অনড় অবস্থান রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।