প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমূল বদলাবে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা! ৬ সদস্যের মেগা টাস্ক ফোর্সের প্রধান হলেন নন্দন নিলেকানি

দেশজুড়ে দীর্ঘ এবং রক্তক্ষয়ী নিট (NEET) আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে সৃষ্ট চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে এক ঐতিহাসিক ও মেগা পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিরাপদ, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং যেকোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস-প্রতিরোধী করে তুলতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা আধার কার্ডের অন্যতম রূপকার নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার করে দেশের পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে এই বিশেষ কমিটির মূল লক্ষ্য।
রবিবার সরকারের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী ঘোষণাটি করা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিনই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে চলা টানা ৩৬ দিনের লাগাতার আন্দোলন এবং তীব্র আইনি চাপের মুখে পড়ে নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ঠিক কী করবে এই বিশেষ ছয় সদস্যের টাস্ক ফোর্স? সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে প্রযুক্তি ক্ষেত্র, মহাকাশ গবেষণা, গোয়েন্দা বিভাগ, উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষ প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নন্দন নিলেকানি ছাড়াও এই কমিটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইসরো (ISRO)-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডঃ এস সোমনাথ, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র প্রাক্তন অধিকর্তা তপন ডেকা, আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা অধ্যাপক ভি কামাকোটি, কেন্দ্রের প্রাক্তন শিক্ষা সচিব অনিতা করওয়াল এবং বিশিষ্ট প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ অমৃত লাল মীনাকে।
উল্লেখ্য, ইনফোসিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি ১৯৮১ সালে এন আর নারায়ণ মূর্তি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শিল্পপতিদের সঙ্গে মিলে ইনফোসিস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলভাবে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (CEO)-এর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সংস্থার নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় ফিরে আসেন। এরপর ২০০৯ সালে ইনফোসিস ছেড়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশের সুবৃহৎ ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা আধার (UIDAI)-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এমনকি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়েও অংশ নিয়েছিলেন।
সরকারি সূত্রে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, এই টাস্ক ফোর্স অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করবে এবং দেশের আসন্ন পরীক্ষাগুলির নিরাপত্তা একধাক্কায় বহুগুণ জোরদার করার জন্য তাৎক্ষণিক সুপারিশ জমা দেবে। পাশাপাশি, জাতীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার এক দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখাও তৈরি করবে এই কমিটি। সাইবার সিকিউরিটি ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল সমাধানের সর্বাধিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উপযোগী একটি ত্রুটিহীন পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রের এই মেগা উদ্যোগ সফল হলে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সকলের আস্থা বহুগুণ সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।