CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে বড় আপডেট! ছররা গুলিতে আহত আন্দোলনকারীরা? শুরু অভ্যন্তরীণ তদন্ত

গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল চরম উত্তেজনা। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সেই মিছিলে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)-এর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। কনট প্লেস এলাকায় এই বিক্ষোভে পেলেট গান বা ছররা গুলি থেকে ছোড়া গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) এবং তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও রিপোর্ট তৈরি করছে।
সংঘর্ষের প্রধান হাইলাইটস-
র্যাফ জওয়ানদের জখম: কনট প্লেস এলাকার সংঘর্ষে র্যাফের ৪৭ জনেরও বেশি জওয়ান আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত যথেষ্ট গুরুতর।
পুলিশি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ ও র্যাফ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিচার্জ করলেও, আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি— তাঁদের লক্ষ্য করে পেলেট গানও ব্যবহার করা হয়েছিল।
আহতদের তথ্য: দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ওই বিক্ষোভে অন্তত চারজন পেলেট গানের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ‘ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল’-এর হাতে আসা এক আহত ব্যক্তির চিকিৎসার নথিতেও ২০ জুলাইয়ের এই ছররা গুলি লাগার দাবির উল্লেখ রয়েছে।
সিআরপিএফ-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও এসওপি (SOP) পদ্ধতি
প্রাথমিকভাবে পুলিশ বা প্রশাসন পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিআরপিএফ সূত্রে খবর, বাহিনীর প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুযায়ী, যেকোনো বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানের পরই এই ধরনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক।
সেই নিয়ম মেনেই কনট প্লেস ও যন্তর মন্তরের ঘটনায় র্যাফের ভূমিকা, কার্যপ্রক্রিয়া এবং গোটা অভিযানের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সিআরপিএফ ও র্যাফের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পটপরিবর্তন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলির বিষয়ে ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদী সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তবে বিক্ষোভ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বলপ্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে সিআরপিএফ-এর এই অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।