২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি বারংবার শিরোনামে এসেছে। সোমবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের এই স্পর্শকাতর এলাকাটিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার গভীর রাতে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন। পুলিশের রুটিন টহলদারির সময় বাড়ির ভিতর থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ও বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন সন্দেশখালি থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত-সহ ৫ জন নিরাপত্তারক্ষী।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে টহল দিচ্ছিলেন ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত। অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকার থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি এবং ককটেল বোমা ছোড়া হয়। হঠাৎ এই আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বাহিনী। ওসির শরীরে গুলির স্প্লিন্টার লেগে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।
কমিশনের কড়া নির্দেশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
সন্দেশখালির এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন। ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-র সঙ্গে কথা বলেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো সন্দেশখালি এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ড্রোন উড়িয়ে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
নির্বাচনী ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে যে এবারের ভোটে সন্দেশখালিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই এই ঘটনা। তবে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। এলাকাটি বর্তমানে থমথমে, দোকানপাট বন্ধ। স্থানীয় মানুষরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর এবং পরিস্থিতির ওপর সর্বদা নজর রাখা হচ্ছে।





