‘সন্ত্রাসবাদ আর আপস নয়…!’ পিওকে ফেরত নেওয়াই এখন ভারতের একমাত্র এজেন্ডা, যুদ্ধংদেহী মেজাজে স্পষ্ট বার্তা রাজনাথ সিংয়ের!

রবিবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে দেশের বিদেশনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত করার নানা কূটনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, ভারত সরকার যে তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে একচুলও সরছে না, তা এদিন মন্ত্রীর বক্তব্যে একেবারে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রাজনাথ সিং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো সাধারণ বা প্রথাগত আলোচনা হবে না। যদি ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা বা সংলাপের টেবিলে বসতেও হয়, তবে তার একমাত্র এবং প্রধান এজেন্ডা হবে ‘পাক-অধিকৃত কাশ্মীর’ বা পিওকে (POK), যা ভারতের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অবৈধভাবে জবরদস্তি দখল করে রেখেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল যখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চলছে। রাজনাথ সিং অত্যন্ত কঠোর সুরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান যতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় ও মদত দিয়ে যাবে, ততদিন তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক প্রতিবেশীসুলভ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রশ্নই ওঠে না। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদল বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অর্থাৎ বিন্দুমাত্র বরদাস্ত না করার নীতিরই অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভীক প্রতিফলন।

অন্যদিকে, দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলিও জাতীয় নিরাপত্তার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুতে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানকে পাশে থেকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের কিছু অংশের অভিমত যে, কূটনীতির স্বার্থে ব্যাকচ্যানেল বা গোপন আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ না করাই শ্রেয়, তবুও সামগ্রিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই ঘোষণাকে একটি অত্যন্ত সাহসি ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু পাকিস্তান বারবার সামরিক আগ্রাসন, যুদ্ধ এবং গোপন অনুপ্রবেশের মাধ্যমে এই অঞ্চলের একটি অংশ অবৈধভাবে কবজা করে রেখেছে। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর থেকে ভারত সরকার বিশ্বমঞ্চে আরও অনেক বেশি স্পষ্ট ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং অত্যন্ত জোরালোভাবে আরও উল্লেখ করেছেন যে, পিওকে-র সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন সীমাহীন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সেখানকার নির্যাতিত জনতা ভারতের সঙ্গে মিলিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে চলেছেন এবং ভারত সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের এই ন্যায়সংগত দাবির পাশে मजबूती-র সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট চলা সত্ত্বেও তারা দেশের সীমান্তে নিয়মিত উস্কানি ও নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এবং চক্রান্ত মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সক্ষম, তাও এদিন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত সর্বদা শান্তি ও উন্নয়নে বিশ্বাসী, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের পথ চিরতরে ত্যাগ করতেই হবে।