মোদীর মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর শিক্ষামন্ত্রকের নতুন দায়িত্ব পেলেন কে?

কেন্দ্রীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ সদস্য প্রহ্লাদ যোশীকে এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরামর্শে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার পরই মহামহিম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। প্রহ্লাদ যোশী, যিনি ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তিনি এবার থেকে এই অতিরিক্ত গুরুদায়িত্বও পালন করবেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল ইস্যু এবং সামগ্রিক শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে যখন দেশজুড়ে অবিরাম আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, ঠিক এমন এক স্পর্শকাতর ও ক্রান্তিলগ্নে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চলুন এবার এক নজরে জেনে নেওয়া যাক, একেবারে সাধারণ একটি পরিবার থেকে লড়াই করে উঠে এসে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের এত উচ্চপদে পৌঁছানো প্রবীণ নেতা প্রহ্লাদ যোশী আদতে কতটা শিক্ষিত এবং এ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাই বা কেমন ছিল। প্রহ্লাদ যোশীর জন্ম ১৯০২ সালের ২৭শে নভেম্বর কর্ণাটকের ঐতিহাসিক বিজয়াপুরায় (তৎকালীন বিজয়পুর)। তাঁর পিতা ভেঙ্কটেশ যোশী ভারতীয় রেলওয়ের একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন এবং তাঁর মাতা মালতিবাঈ অত্যন্ত সাদাসিধে এক পরিবারে জীবন কাটিয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক নানা কাজের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জীবিকার তাগিদে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন এবং ব্যবসার পাট চুকিয়ে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন। গোড়ার দিকে তিনি উগ্র দেশপ্রেম ও সমাজসেবার পাঠ নিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন এবং এই সংগঠনের দীর্ঘ কর্মজীবনের সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি নিজস্ব শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, প্রহ্লাদ যোশী তাঁর জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন স্থানীয় একটি রেলওয়ে স্কুল থেকে। এরপর তিনি হুবলির স্বনামধন্য নিউ ইংলিশ স্কুল থেকে সফলভাবে তাঁর স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার পসরা সাজাতে তিনি কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হুবলির ঐতিহ্যবাহী কে.এস. আর্টস কলেজ থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ (BA) ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা সমাপ্ত করার পর থেকেই তিনি নিজের সমস্ত সময় সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ ও জনজীবনে সক্রিয়ভাবে উৎসর্গ করেন। রাজনৈতিক কেরিয়ারের নিরিখে তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সফল এক নাম। তিনি এ পর্যন্ত নিজ রাজ্য থেকে দীর্ঘ পাঁচবার মর্যাদাপূর্ণ লোকসভায় সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদীয় বিষয়াবলী, কয়লা ও খনির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বিরাট অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি দেশের আগামী প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বহু যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।