সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর একরাশ সতেজতার বদলে যদি ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা বা পিঠের ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়, তবে সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। অনেকেরই মনে হয় সারা রাত বিশ্রামের বদলে যেন কোনো যুদ্ধ করে উঠেছেন। এই সমস্যার মূলে আপনার শোয়ার ভঙ্গি না কি আপনার প্রিয় বালিশটি—তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বালিশের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, তা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা এবং অস্থি বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বালিশের মূল কাজ হলো শরীরের শোয়ার ভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঘাড় ও মেরুদণ্ডকে একটি নির্দিষ্ট সরলরেখায় ধরে রাখা। যদি বালিশের উচ্চতা সঠিক হয়, তবে এটি ঘাড়ের স্বাভাবিক বক্ররেখা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ঘাড়ের পেশিগুলো বিশ্রাম পায় এবং ব্যথার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে যাদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মাথা সামান্য উঁচুতে রেখে ঘুমনো বেশি আরামদায়ক। এছাড়া আজকাল বাজারে অ্যান্টি-অ্যালার্জেনিক বালিশ পাওয়া যায়, যা ধুলোবালি থেকে শ্বাসকষ্টের রোগীদের সুরক্ষা দেয়।
অন্যদিকে, বালিশ ছাড়া ঘুমানোরও কিছু চমৎকার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা রয়েছে। যারা চিত হয়ে ঘুমান, তাঁদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো অত্যন্ত কার্যকর কারণ এতে মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এছাড়া বালিশ ছাড়া ঘুমালে মুখের ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না, যা দীর্ঘমেয়াদে বলিরেখা বা ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে মাথা ও ঘাড়ে রক্ত সঞ্চালন নির্বিঘ্ন হয়, ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠলে শরীর অনেক বেশি সতেজ লাগে।
কার জন্য কোনটি সঠিক?
আপনার শরীরের গঠন এবং শোয়ার ধরনই ঠিক করে দেবে আপনি বালিশ নেবেন কি না।
পাশ ফিরে ঘুমান যারা: ঘাড় ও কাঁধের মধ্যে যে ফাঁকা অংশ থাকে, তার দূরত্ব মেটাতে বালিশ অপরিহার্য।
উপুড় হয়ে ঘুমান যারা: এদের জন্য বালিশ ছাড়াই ঘুমানো ভালো, নাহলে মেরুদণ্ডে মারাত্মক টান পড়তে পারে।
চিত হয়ে ঘুমান যারা: এরা চাইলে পাতলা বালিশ ব্যবহার করতে পারেন অথবা বালিশ ছাড়াও ঘুমাতে পারেন।
সুনিদ্রাই হলো সুস্থতার চাবিকাঠি। যদি দেখেন বালিশ ব্যবহারের ফলে ঘাড় ব্যথা হচ্ছে, তবে পাতলা বালিশ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আপনার যদি কোনও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমস্যা না থাকে, তবে যে অবস্থানে আপনি সবচেয়ে বেশি আরাম পান এবং সকালে সতেজ অনুভব করেন, সেটিই আপনার জন্য সেরা উপায়।





