ইস্তফা দেবেন না মমতা! ভবানীপুরে হারের পর বিস্ফোরক তৃণমূলনেত্রী, বঙ্গ রাজনীতিতে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বোমা ফাটালেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পরাজিত হলেও তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‘আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করাবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? আমি সব তথ্য-প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি সিইও ও আরও-কে সব জানিয়েছি। অভিযোগ কাকেই বা করব, সবাই তো বিক্রি হয়ে গেছে।’’

২৯৪টি আসনের মধ্যে গেরুয়া ঝড়ে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। এই পরিস্থিতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকার করা এক বিরাট সাংবিধানিক জট তৈরি করেছে। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো এবং নিজে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা নৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই অসম্ভব। যদি তিনি ইস্তফা না দেন, তবে রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে কয়েকটি কঠোর বিকল্প পথ খোলা থাকছে:

১. রাজ্যপালের মাধ্যমে বরখাস্ত: সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের ‘সন্তুষ্টি’ (Pleasure) সাপেক্ষে পদে থাকেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো ব্যক্তিকে রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন।
২. আস্থা ভোট বা ফ্লোর টেস্ট: রাজ্যপাল বিশেষ অধিবেশন ডেকে অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। তাতে ব্যর্থ হলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
৩. রাষ্ট্রপতির শাসন (৩৫৬ ধারা): যদি পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী গদি না ছেড়ে সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করেন, তবে রাজ্যপাল রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন।

এদিকে, নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বিরোধী দলনেতার পদটি পেতে গেলে মোট আসনের ১০ শতাংশ অর্থাৎ অন্তত ৩০টি আসন প্রয়োজন। তৃণমূল ৮০টি আসন পাওয়ায় তারা এই পদের দাবিদার। তবে খোদ দলনেত্রীই যেখানে পদত্যাগ করতে নারাজ, সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে কে কাজ শুরু করবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিপূর্বেই জয়ী হয়ে ১০ দিনের মধ্যে আসন ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও, মমতার এই ‘বিদ্রোহী’ মেজাজ বাংলার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে এক অস্থির অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy