‘তগড়া হতে চাইলে আমার ঘাম খাও!’ যুবকের আচরণ দেখে বমি আসার জোগাড় নেটিজেনদের, ব্যাপক তোলপাড়

পাঞ্জাবের পবিত্র ভূমি অমৃতসর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা পপুলারিটি স্টান্ট বা লাইক-কমেন্ট পাওয়ার লোভে এক চরম অরুচিকর, অদ্ভুত এবং অবমাননাকর ঘটনার কথা সামনে এসেছে। শহরের ব্যস্ততম তরনতারন রোড এলাকায় ‘দ্য রক জিম’ নামে একটি সুপরিচিত ফিটনেস সেন্টার পরিচালনা করেন এক নামী জিম ট্রেনার, যিনি স্থানীয় মহলে তেজবীর সিং রানা ওরফে ‘রানারক’ নামে সমধিক পরিচিত। সম্প্রতি এই শরীরচর্চা প্রশিক্ষকের মাত্র ৮ সেকেন্ডের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায় যে, কঠোর শরীরচর্চার পর ট্রেনার নিজের শরীর থেকে পসিয়ায় লथপথ ভিজে টি-শার্টটি খুলে সজোরে নিংড়াচ্ছেন এবং সেখান থেকে ঝরে পড়া পচা ঘামের ফোঁটা তাঁরই এক বিশ্বস্ত শিষ্য বা চেলার মুখের ওপর জোর করে ফেলার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, ভিডিওতে ওই ট্রেনারকে অত্যন্ত বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে বলতে শোনা যায়— “যদি তুই এটা পান করিস, তবে তুইও এক লহমায় আমার মতো তগড়া ও শক্তিশালী হয়ে যাবি।”

সামাজিক মাধ্যমের পাতা থেকে এই অবাস্তব ও কুরুচিকর ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। নেটদুনিয়ার প্রতিটি কোণ থেকে তীব্র ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা ওই বিকৃত মানসিকতার জিম ট্রেনারের ওপর চড়াও হন এবং কমেন্ট বক্সে তাঁকে যথেচ্ছ ভর্ৎসনা ও গালিগালাজ করতে শুরু করেন। সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটিয়ে এমন জঘন্য কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবিও জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে এবং নিজের ব্যবসা ও খ্যাতির কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত তেজবীর সিং রানা ওরফে রানারক একটি নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করতে বাধ্য হন। নতুন সেই ভিডিওতে তাঁকে সকলের সামনে হাত জোড় করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। রানারক দাবি করেন যে, তাঁর এই আচরণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ধর্মীয় ও মানসিক ভাবাবেগে যে গভীর আঘাত লেগেছে, তার জন্য তিনি গভীরভাবে লজ্জিত।

নিজের দোষ ঢাকতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতে ওই জিম ট্রেনার এক অদ্ভুত সাফাই পেশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ ঠাট্টা বা মজার ছলে ওই কন্টেন্টটি তৈরি করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী তথা শিষ্য রাজনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন এই ধরনের আপত্তিকর ভিডিও কোনোভাবেই ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা না হয়। কিন্তু যেহেতু রবিবার জিম বন্ধ থাকে এবং ছুটির দিনে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও তার পাসওয়ার্ড রাজনের কাছেই থাকে, তাই অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত সেই শিষ্যই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। যদিও এই খোঁড়া যুক্তি বা অজুহাত সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার অন্ধ দৌড়ে আজ যুবসমাজ কোন পর্যায়ে নেমে গেছে, অমৃতসরের এই ঘটনা তার এক অত্যন্ত লজ্জাজনক ও জলজ্যান্ত উদাহরণ।