মোবাইল নম্বর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! UPI পেমেন্ট আরও নিরাপদ করতে কী নিয়ম আনছে NPCI?

ইউপিআই (UPI) ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিরাপদ এবং ব্যবহারকারীদের কাছে গোপনীয় করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউপিআই লেনদেনের সময় ব্যবহারকারীদের মোবাইল নম্বর আড়াল বা হাইড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং ইউপিআই অ্যাপগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে এনপিসিআই।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন অনুযায়ী সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। বর্তমান নিয়মে ইউপিআই লেনদেনের সময় প্রেরক বা গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিষ্কার দৃশ্যমান থাকে, যা অনেক সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বহু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছিলেন যে, লেনদেনের সময় নম্বর প্রকাশ্যে আসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল, ফিশিং এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

নতুন নির্দেশিকায় কী কী বদল আসছে?

  • নম্বর আড়াল করা: নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউপিআই লেনদেনের সময় সম্পূর্ণ মোবাইল নম্বর আর প্রকাশ্যে দেখানো হবে না। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, নিরাপত্তার খাতিরে মোবাইল নম্বরের কেবল শেষ চারটি সংখ্যা দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • QR কোড পেমেন্ট: কিউআর (QR) কোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর প্রেরক বা গ্রাহকের মোবাইল নম্বর আর স্ক্রিনে ভেসে উঠবে না।

  • ভার্চুয়াল আইডি: সরকার সমস্ত ইউপিআই অ্যাপগুলিকে এমন ইউপিআই আইডি তৈরির সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা সরাসরি মোবাইল নম্বর-নির্ভর নয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে সেগুলিকে তাঁদের ডিফল্ট আইডি হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন।

৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যকরের নির্দেশ

গত মাসেই এনপিসিআই-এর তরফে একটি সার্কুলার জারি করে সমস্ত ইউপিআই অ্যাপ এবং অংশীদার ব্যাঙ্কগুলিকে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য (যেমন- ইউপিআই আইডি, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর) গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেন আরও অনেক বেশি সুরক্ষিত ও গোপনীয় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।