সংসদ ঘেরাও অভিযানে ধুন্ধুমার! যন্তরমন্তরে পুলিসের লাঠিচার্জে আহত বহু, মাঝপথে আটকে গেলেন মহুয়া মৈত্র ও চন্দ্রশেখর আজাদ

নয়াদিল্লির বুকে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ একলাফে চরম সীমায় পৌঁছে গেল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ অভিযাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার সমর্থক ও কর্মী ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পূর্বনির্ধারিত মিছিল ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে জটলা ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের এই আকস্মিক ও চড়া মাত্রার বলপ্রয়োগের ঘটনায় উপস্থিত প্রতিবাদী কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের সাফ দাবি, তাঁরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু কোনো রূপ প্ররোচনা ছাড়াই প্রশাসন বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়।

ঘটনাচক্রের প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লির ওই সংবেদনশীল যন্তর-মন্তর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সাধারণ নাগরিক ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তা ভারী ব্যারিকেড দিয়ে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলা হয় এবং সুনির্দিষ্ট মিছিলের রুটেও কঠোর নজরদারি চালানো হয়। প্রতিবাদকারীরা যখন দলে দলে এসে জমায়েত শুরু করেন, তখন পুলিশ তাঁদের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে এগোতে বাধা দেয়। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় বলেই অভিযোগ ওঠে। তবে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

এই বহুল আলোচিত ও উত্তেজনাকর কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে এবং সরাসরি অংশ নিতে সকালেই যন্তর-মন্তরে উপস্থিত হন আজাদ সমাজ পার্টি (কাশীরাম)-এর জাতীয় সভাপতি তথা বিশিষ্ট সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ। প্রতিবাদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁকে দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করতে এবং এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করতে দেখা যায়। একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছাড়াও সেখানে যোগ দেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তেজস্বী ও লড়াকু সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিশিষ্ট বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের এই সরব উপস্থিতি সমগ্র প্রতিবাদ কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্ব ও মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। উপস্থিত বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা কড়া ভাষায় নিন্দা করে জানান যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করার মৌলিক অধিকার ভারতীয় সংবিধানস্বীকৃত, তাই দমনপীড়ন বা বলপ্রয়োগের পথ না বেছে প্রশাসনের উচিত ছিল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

আন্দোলনকারী ও প্রতিবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পুলিশের এই নির্বিচার লাঠিচার্জের জেরে বেশ কয়েকজন সাধারণ কর্মী ও সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। যদিও এই সংঘাতে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সরকারি বা চিকিৎসাগত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

অন্যদিকে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তরফ থেকে রাজধানীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কড়া কারণে আগেই দিল্লির একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল এবং যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সংসদ চত্বর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির আশপাশে নিরাপত্তা বলয় আরও বহুলাংশ জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্তাদের দাবি, রাজধানীর জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি কঠোরভাবে এড়ানোই তাদের প্রধান ও সর্বাগ্রে লক্ষ্য।