হাসপাতাল থেকেই সংসদ অভিযানের আকুল আর্জি! অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের চিঠি ঘিরে চরম রাজনৈতিক চাঞ্চল্য

দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র উত্তেজনা এবং নাট্যরূপের মধ্য দিয়ে ফের শিরোনামে উঠে এলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী তথা সমাজসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। একদিকে যখন যন্তর-মন্তরের মাটিতে পূর্বঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ব়্যাফের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল সংঘর্ষ চলছে এবং লাঠিচার্জে গোটা চত্বর রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই হাসপাতালের বিছানা থেকে চাঞ্চল্যকর এক চিঠি পাঠালেন অনশনরত সোনম ওয়াংচুক। শনিবার সপারিষদ সাদা পোশাকে পুলিশ ও ব়্যাফ তাঁকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে সাদা চাদরে আড়াল করে যন্তর-মন্তর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনশন এবং আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। তাঁর স্ত্রী ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সোনম চিকিৎসকদের সমস্ত পরামর্শ উপেক্ষা করে শুধু নুন-জল খেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এখনও তাঁর চিকিৎসাও সঠিকভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের শয্যা থেকেই নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সরাসরি সফদরজং হাসপাতালের ডিরেক্টরের উদ্দেশে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন সোনম ওয়াংচুক। সেই চিঠিতে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আবেদন জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ আছেন এবং তাঁর সমস্ত সাম্প্রতিক পরীক্ষার রিপোর্টও বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই তাঁকে যেন অন্তত কিছুটা সময়ের জন্য হাসপাতাল থেকে রিলিজ বা সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়, যাতে তিনি আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদ ভবন অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারেন। চিঠির শেষাংশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, মূলত সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবিতেই আজকের এই সংসদ অভিযান কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। আর সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্যই হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে বাইরে আসার তীব্র আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র অসংখ্য কর্মী-সমর্থক আজ যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে কঠোর হাতে তা দমন করা হয়। পুলিশ ও ব়্যাফ যৌথভাবে বেআইনি জমায়েত হঠাতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে, যার ফলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অন্যদিকে, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নয়াদিল্লি জুড়েই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর-মন্তর ছাড়া অন্য কোথাও কোনো ধরনের জমায়েত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আজকের সংসদ ভবন অভিযানের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাধারণ নাগরিকদের বেআইনি মিছিলে অংশ না নেওয়ার কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।