নিউটাউনে টাকার পাহাড়! গেস্ট হাউসে পুলিশের তল্লাশিতে আটক ৭, হাওয়ালার বড় ছক কি?

বিধাননগর পুলিশের এক সাহসী ও সময়োচিত অভিযানে নিউটাউনের একটি গেস্ট হাউসে হানা দিয়ে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে সাইবার অপরাধ দমন শাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ পুলিশের প্রাথমিক ধারণাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তদন্তকারী সূত্র অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর ছিল যে নিউটাউনের ওই নির্দিষ্ট গেস্ট হাউসে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত বিশাল অঙ্কের টাকা মজুত রাখা হচ্ছে। এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এলাকাটিকে পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং সোমবার রাতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী হানা দেন। সারারাত ধরে চলা কঠোর তল্লাশিতে গেস্ট হাউসের বিভিন্ন গোপন জায়গা থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উপস্থিতিতে স্পষ্ট যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কোনো বড় অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের অংশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই টাকার সঙ্গে কোনো বড়সড় সাইবার প্রতারণা চক্রের সরাসরি যোগ রয়েছে। ধৃত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। অপরাধীরা এই বিপুল অর্থ অন্য কোনো রাজ্যে বা দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। গেস্ট হাউসের মালিক এবং কর্মীদেরও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় যে তারা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত ছিল।
বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ উদ্ধার নয়, বরং সাইবার অপরাধের এক বিস্তৃত নেটওয়ার্কের শিকড় সন্ধানের শুরু। ধৃত সাতজনকে দফায় দফায় জেরা করে মূল হোতাদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের বিশ্বাস, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ডরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট আস্তানা তৈরি করে তাদের অশুভ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। গেস্ট হাউস বা রিসোর্টগুলিকে ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তার প্রতিটি সূত্র এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে।
রাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন পুলিশের এই অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে নিউটাউনের মতো অভিজাত এলাকায় এই ধরনের অপরাধমূলক আস্তানার উপস্থিতি শহরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীঘ্রই এই বড় প্রতারণা চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত ওই গেস্ট হাউসটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে কঠোর পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ এবং অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।