তারকেশ্বর মন্দিরে আলোর জাদুকরী বিভা, শ্রাবণী মেলার আগে লেজার শো-তে ফুটে উঠছে মহাদেবের রূপ!

শ্রাবণী মেলা মানেই তারকেশ্বরে শিবভক্তদের ঢল। আর সেই পুণ্য লগ্নকে সামনে রেখে তারকেশ্বর মন্দির চত্বর এখন রূপকথার জগতের মতো সেজে উঠেছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মন্দির সংলগ্ন বিখ্যাত দুধ পুকুরে শুরু হয়েছে এক অভিনব লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। অন্ধকার নামলেই দুধ পুকুরের শান্ত জলে লেজারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ভগবান মহাদেবকে নিয়ে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী। থ্রিডি প্রযুক্তিতে তৈরি মহাদেবের এই মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা শিবভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর রোড—পুরো এলাকা চন্দননগরের আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। মন্দিরের ১২ নম্বর রোডের প্রধান প্রবেশদ্বার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের আলোকমালায় সেজে উঠেছে। শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে এবার প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতির আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পানের তত্ত্বাবধানে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ। বিধায়কের মতে, শ্রাবণী মেলাকে এবার জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই মেলার বাজেট ও সামগ্রিক বিষয়ের ওপর নজর রাখছেন।
আগামী ২০ অগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মেলা চলবে ২৮ অগস্ট পর্যন্ত। এবার শ্রাবণ মাসে পাঁচটি সোমবার পড়ায় পুণ্যার্থীদের ভিড় রেকর্ড মাত্রায় ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিধায়ক জানান, ৩০ হাজার মানুষের বসার জন্য চারটি বড় হ্যাঙার তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বসানো হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং নজরদারির জন্য তৈরি করা হয়েছে মেগা কন্ট্রোল রুম। এছাড়া মেলার নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যায়নের জন্য রাস্তার সংস্কার থেকে শুরু করে এলাকা সাজানোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।
মেলার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির বন্দোবস্ত। পাশাপাশি মন্দির চত্বরে পাঁচ দিন ধরে চলবে বিশেষ যজ্ঞ। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বঙ্গীয় সন্ত সমাজের আহ্বানে একটি বিশাল সন্ত সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু ও মহারাজরা যোগ দেবেন। পুণ্যার্থীদের জন্য আলাদাভাবে জলযাত্রী আবাস ও বসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল সাংস্কৃতিক মঞ্চটিকে তারকেশ্বর মন্দিরের স্থাপত্যের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে।
ভক্তি আর আলোর এই অভিনব মেলবন্ধনে তারকেশ্বর এখন কেবল শিব ভক্তদের তীর্থস্থান নয়, হয়ে উঠছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। শ্রাবণ মাস শুরুর আগেই মন্দির চত্বরের এই নতুন রূপ ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে। বাবাসাহেবের দর্শনের পাশাপাশি এই আলোকসজ্জা এবং লেজার শো পুণ্যার্থীদের জন্য এক বাড়তি পাওনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং আলোকসজ্জার জাঁকজমকে তারকেশ্বর এখন পুরোপুরি প্রস্তুত শ্রাবণী মেলার বিপুল জনস্রোতকে স্বাগত জানাতে।