সংরক্ষণের রাজনীতিতে নয়া মোড়, ‘জিতনি আবাদি উতনা হক’ স্লোগানে মধ্যপ্রদেশে ৮৭% সংরক্ষণ ঘোষণা!

কাস্ট সার্ভে বা জাতি শুমারির দাবি মেনে নরেন্দ্র মোদীর সরকার আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এবার বিজেপি শাসিত মধ্য প্রদেশ সরকার সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য মোট ৮৭ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বহুল চর্চিত স্লোগান ‘জিতনি আবাদি উতনা হক’ (জনসংখ্যা যত, তার প্রাপ্য তত) তুলে ধরেছেন। মোহন যাদব জানান, তাঁর সরকারের সংরক্ষণ নীতির গোড়ার কথা এটাই।

মধ্যপ্রদেশের সংরক্ষণ কাঠামো: ৫০% সীমা লঙ্ঘন
মধ্যপ্রদেশ সরকার তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণি (OBC)-দের জন্য সংরক্ষণের হার বাড়িয়েছে।

বিভাগ সংরক্ষণের পরিমাণ
তফশিলি জাতি (SC) ১৫.৬ শতাংশ
তফশিলি উপজাতি (ST) ২১.১ শতাংশ
অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণি (OBC) ৫১ শতাংশ
মোট সংরক্ষণ ৮৭.৭ শতাংশ

Export to Sheets
আইনের সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
সংরক্ষণ নিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেও, এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, ভারতে সংরক্ষণের পরিমাণ কখনোই ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে না। ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ বরাদ্দ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।

এই সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও এর আগে বিহার সরকার ৬৫ শতাংশ এবং ঝাড়খন্ড সরকার ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার কথা ঘোষণা করেছে। এবার সেই পথেই হাঁটলো বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ।

‘কাঁসিরামের পথে’ হাঁটছে প্রায় সব দল
রাজনীতির আশ্চর্য সমাপতন হল, উত্তরপ্রদেশে বিএসপি (BSP) যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কাঁসিরামের কথাই শোনা যাচ্ছে দলগুলির মুখে।

আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে কাঁসিরাম এই দাবি তুলেই উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে তাঁর হাতে তৈরি বহুজন সমাজবাদী পার্টির মূল স্লোগান ছিল: ‘জিসকি জিতনি সংখ্যা ভারী, উসকি উতনি হিস্যেদারি’। রাহুল গান্ধী সেই কথাটিই আরও সহজ করে বলছেন, ‘জিতনি আবাদি, উতনা হক।’

বর্তমানে কংগ্রেস, বিজেপি-সহ প্রায় সব দলই এখন জাতি গণনা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবে গলা মিলিয়েছে।

মোদী সরকারের ‘অপ্রকাশিত’ রিপোর্ট ও রাজনৈতিক কৌশল
কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের শেষ দিকে তৈরি হওয়া ২০১১-১২ সালের আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা রিপোর্টটি প্রকাশের দাবি জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের দাবি, ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক এবং চাকরি-শিক্ষায় সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হোক।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই রিপোর্ট প্রকাশ হলে নীচু জাতি বলে চিহ্নিত অংশের মানুষের ভয়াবহ পশ্চাৎপদতা সামনে আসবে এবং বাড়তি সংরক্ষণের দাবি উঠবে। এই কারণেই মোদী সরকার রিপোর্টটি প্রকাশ করছে না। উল্টে গেরুয়া শিবির বৃহত্তর হিন্দু ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে সব জাতিগোষ্ঠীকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিজেপির সেই ছক উল্টে দিতে কাঁসিরামের পথেই হাঁটতে চাইছে প্রায় সব দল।