শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীতে ভুলেও করবেন না এই ৫টি কাজ! কোন ভুলগুলিতে অর্জিত পুণ্য হয় নষ্ট?

হিন্দুধর্মে একাদশী তিথি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। পঞ্জিকা অনুসারে, বছরের চব্বিশটি একাদশীর মধ্যে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পুত্রদা একাদশী বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চলতি ২০২৬ সালে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি আগামী ২৩শে আগস্ট ভোর ২:০০ টায় শুরু হয়ে ২৪শে আগস্ট ভোর ৪:১৮ টায় সমাপ্ত হবে। উদয় তিথি অনুযায়ী আগামী ২৩শে আগস্ট পুত্রদা একাদশী ব্রত পালিত হবে। এই পবিত্র দিনে দেবাদিদেব মহাদেব ও ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা এবং উপবাস পালনের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। শাস্ত্রীয় ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পুত্রদা একাদশীর দিন কিছু নির্দিষ্ট কাজ কঠোরভাবে পরিহার করা উচিত। অন্যথায় উপবাসের পুণ্যফল নষ্ট হতে পারে এবং জীবনে নেমে আসতে পারে নানা অমঙ্গল। আসুন জেনে নেওয়া যাক একাদশীর দিনে কোন পাঁচটি কাজ একেবারেই করা উচিত নয়।

প্রথমত, একাদশীর দিনে চাল বা ভাত খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, একাদশীতে ভাত গ্রহণ করলে পাপের ভাগীদার হতে হয়। তাই যাঁরা উপবাস রাখেন এবং যাঁরা উপবাস করেন না—উভয়কেই এই দিনে ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, একাদশীর দিনে ভুল করেও তুলসী পাতা ছেঁড়া উচিত নয়। ভগবান বিষ্ণুর পুজোয় তুলসী পাতা অপরিহার্য হলেও, একাদশীর পবিত্র দিনে তুলসী পাতা ছোঁড়া বা তোলা থেকে বিরত থাকতে হয়। পুজোর প্রয়োজনে একদিন আগেই তুলসী পাতা সংগ্রহ করে রাখা উচিত।

তৃতীয়ত, পুত্রদা একাদশীর দিন চুল ও নখ কাটা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, একাদশী হলো আত্মসংযম, পবিত্রতা ও সাধনার দিন। তাই এই ধরনের শারীরিক সাজসজ্জা বা পরিচ্ছন্নতার কাজ এই পবিত্র তিথিতে করা নিষিদ্ধ।

চতুর্থত, একাদশীর দিনে কোনো জীবন্ত প্রাণীকে আঘাত করা বা কষ্ট দেওয়া মহাশাপের সমান বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ দিনে কঠোরভাবে অহিংসার নীতি পালন করা এবং সমস্ত জীবের প্রতি সমান সহানুভূতিশীল হওয়ার বিধান রয়েছে।

পঞ্চমত, পুত্রদা একাদশীতে শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসে নয়, বরং মানুষের আচরণ ও চিন্তাভাবনাতেও পূর্ণ সংযম বজায় রাখতে হয়। মিথ্যা বলা, কাউকে কটূক্তি করা, অপমান করা, অন্যের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো কিংবা প্রতারণা করার মতো সমস্ত অসৎ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা আবশ্যক।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পুত্রদা একাদশী ব্রত একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে ভক্তের সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয় এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির ধারা বজায় থাকে।