ভারতীয় সংস্কৃতিতে করবা চৌথ যেমন উত্তর ভারতে জনপ্রিয়, ঠিক তেমনই পূর্ব ও পশ্চিম ভারতে বিবাহিত মহিলাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রত হলো ‘বট সাবিত্রী’। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে পতিব্রতা সাবিত্রীর ত্যাগ ও নিষ্ঠাকে স্মরণ করে বট গাছের পুজো করেন মহিলারা। কথিত আছে, সাবিত্রী এই বটতলায় বসেই যমরাজের সাথে লড়াই করে মৃত স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালে এই ব্রত পালন নিয়ে তিথির ফেরে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি।
জ্যোতিষী ও পণ্ডিত রজত শাস্ত্রীর মতে, ২০২৬ সালে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ জুন সকাল ১১:০৭ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ১৬ জুন সকাল ৮:২৩ মিনিটে। যেহেতু সূর্যোদয়ের সময় তিথি পাওয়াকে শাস্ত্রীয় নিয়ম বা ‘উদয়া তিথি’ ধরা হয়, তাই আগামী ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবারই বট সাবিত্রী ব্রত পালন করা কর্তব্য। পুজোর মাহেন্দ্রক্ষণ থাকছে সূর্যোদয় থেকে সকাল ৮:২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্রহ্ম মুহূর্ত ও অমাবস্যার সংযোগ থাকছে, যা অখণ্ড সৌভাগ্য লাভের জন্য শ্রেষ্ঠ।
নিখুঁত পুজোর নিয়ম ও বিশেষ সতর্কতা:
ব্রত পালনের আগের দিন অর্থাৎ ১৫ জুন থেকেই সংযম পালন করতে হবে। পুজোর দিন লাল বা হলুদ রঙের নতুন শাড়ি পরে হাতে আলতা ও সিঁদুরে সজে সংকল্প করতে হবে। এরপর বট গাছের নিচে সাবিত্রী-সত্যবানের ছবি রেখে ৭ বা ১০৮ বার সুতো পেঁচিয়ে প্রদক্ষিণ করতে হবে। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে সবথেকে বড় ভয়ের কারণ। পণ্ডিত রজত শাস্ত্রী সাবধান করে জানিয়েছেন, ৮০ শতাংশ মহিলাই সুতো বাঁধার সময় ভুল দিকে ঘোরেন। শাস্ত্র মতে, সর্বদা ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) ঘুরতে হয়। ভুলবশত কেউ যদি উল্টো দিকে (Anti-clockwise) পাক দেন, তবে পুণ্যের বদলে স্বামীর অমঙ্গল ও পরিবারের দুর্ভাগ্য ঘনিয়ে আসতে পারে।
এছাড়া পুজোর সময় চুল খোলা রাখা, কালো বা নীল রঙের পোশাক পরা এবং সেলাই বা কাটাকুটির কাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি হাতের কাছে বট গাছ না থাকে, তবে বাড়ির টবে একটি বটের ডাল রোপণ করে বা তুলসী গাছকে বট জ্ঞানে পুজো করলেও ফল পাওয়া যায়। ভক্তি ও সঠিক নিয়মের মেলবন্ধনেই স্বামীর আয়ু হবে ‘অক্ষয়’। ১৬ জুন ভোরে নিয়ম মেনে পুজো সেরে নিরামিষ আহারের মাধ্যমে ব্রত উদযাপন করুন। মনে রাখবেন, বিশ্বাসেই ফল মেলে, আর শুদ্ধ আচারেই তুষ্ট হন দেবতারা।





