শপথের মঞ্চে কান্নার রোল! কে এই প্রবীণ নেতা যাঁকে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী? জানুন তাঁর অবিশ্বাস্য ইতিহাস

তিলোত্তমার বুকে এক ঐতিহাসিক ভোরের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে গোটা কলকাতা যেন এক টুকরো গেরুয়া উৎসবে মেতে উঠেছিল। কিন্তু এই জমকালো আয়োজনের মধ্যেও সবথেকে চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মানবিক ও আবেগঘন পদক্ষেপ।
মঞ্চে যখন শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা চলছে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাখনলাল সরকারকে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই মানুষটি কেবল একজন প্রবীণ নাগরিক নন, বরং তিনি ভারতীয় জনসঙ্ঘের সেই আদি কর্মীদের একজন, যাঁদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আজকের এই জয় দাঁড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ বদলে দেয়। ৯৭ বছর বয়সী মাখনলালের চোখে তখন আনন্দাশ্রু। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াই যেন আজ সার্থক রূপ পেল।
মাখনলাল সরকারের ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ১৯৫২ সালে যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাশ্মীরে ভারতের তেরঙা পতাকা উত্তোলনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, তখন মাখনলাল ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। সেই সময় কংগ্রেস সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। আদালতে তাঁকে যখন বিচারপতির সামনে পেশ করা হয়, তখন তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেজস্বী মাখনলাল সরাসরি জানিয়ে দেন, “দেশের গান গাওয়া অপরাধ নয়, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁর এই দৃঢ়তায় মুগ্ধ হয়ে আদালত তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয় এবং বিশেষ ভাতার নির্দেশ দেয়।
আজ ব্রিগেডের মঞ্চে সেই বীরত্বের ইতিহাসই যেন জীবন্ত হয়ে উঠল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন মাখনলাল সরকারের হাত ধরে যখন কথা বলছিলেন, তখন তা শুধু এক ব্যক্তির প্রতি সম্মান ছিল না, বরং তা ছিল জনসঙ্ঘ থেকে বর্তমান বিজেপির আদর্শিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি। বিশ্লেষকদের মতে, শ্যামাপ্রসাদের যে স্বপ্ন অধরা ছিল, মাখনলালের চোখের তৃপ্তিতেই আজ তা পূর্ণতা পেল। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, বরং একটি আদর্শের পূর্ণতার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।