শ্বশুরবাড়িতে জোর করে ফেরানো যাবে না! নির্যাতিতা স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল হাইকোর্ট!

দাম্পত্য জীবনে অশান্তি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে স্ত্রীকে কখনই জোর করে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে শুধুমাত্র স্বামীর অধিকারের যুক্তিতে। সম্প্রতি এমনই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী রায় দিয়ে পারিবারিক আদালতের আগের নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোনো স্ত্রী যদি তার শ্বশুরবাড়িতে নিজেকে সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত বোধ করেন এবং স্বামী তথা তাঁর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে হেনস্থা বা নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন, তবে তাঁকে কোনোভাবেই সেই বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য করা যাবে না।

ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ ও বিচারপতি সঞ্জয় প্রসাদের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ একটি পারিবারিক মামলার শুনানিতে এই রায়দান করেছে। এর আগে নিম্ন আদালত বা পারিবারিক আদালত ওই স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ার আগে স্ত্রীর ওপর চলা নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যদি প্রমাণিত হয় যে স্ত্রীর কাছে আলাদা থাকার বা স্বামীর সংসার ত্যাগ করার যথেষ্ট ও আইনসম্মত জোরালো কারণ রয়েছে, তবে আদালত কখনই জোর করে দাম্পত্য জীবন পুনরায় শুরু করার রায় দিতে পারে না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৭ মে ওই মুসলিম দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর অভিযোগ ছিল যে, বিয়ের প্রায় দু’বছর পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয় এবং স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ির থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন। যদিও কিছুদিন বেঙ্গালুরুতে থাকার পর তাঁরা ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন, তবে ২০২২ সালে স্ত্রী চিরতরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরতে চাননি। পঞ্চায়েত স্তরে একাধিকবার সালিশি সভা হলেও কোনো সমাধান না মেলায় স্বামী আইনি পথে পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন, যেখান থেকে তাঁর পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবীরা আদালতে জোরালো সওয়াল করেন যে, স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্রমাগত নিষ্ঠুর আচরণ এবং শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের কারণেই স্ত্রী বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। আদালত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে স্ত্রীর পক্ষে রায় দেয় এবং পারিবারিক আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয়।