অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। দীর্ঘ কুড়ি দিনের ভোট-উৎসবের যবনিকা পড়তে চলেছে বুধবার। গত ৯ এপ্রিল কেরল, অসম ও পুদুচেরি দিয়ে শুরু হওয়া ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই শেষ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে। আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট মিটলেই সবার চোখ থাকবে ‘এক্সিট পোল’ বা বুথফেরত সমীক্ষার দিকে। ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে আগামিকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে হার-জিতের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব রাজ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সমীক্ষা বা এক্সিট পোল প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার কথা। তবে লাইনে ভোটারদের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে কেরালা, অসম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির সমীক্ষা সামনে আসতে শুরু করবে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তেজনার পারদ এতটাই বেশি যে, এখানকার বুথফেরত সমীক্ষা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে জাতীয় নিউজ চ্যানেলগুলিতে প্রাধান্য পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর লাগাতার প্রচার বনাম ঘাসফুল শিবিরের লড়াই—সব মিলিয়ে বঙ্গ নির্বাচন এবার দিল্লির নজরে। ৮২৪টি বিধানসভা আসনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পর কার মাথায় বসবে রাজতিলক, তার একটা প্রাথমিক আভাস পাওয়া যাবে এই এক্সিট পোলের মাধ্যমে। যদিও এই সমীক্ষাগুলি চূড়ান্ত ফল নয়, তবুও জনমতের হাওয়া কোন দিকে বইছে, তা বুঝতে সাহায্য করে এই পূর্বাভাস।
স্মর্তব্য যে, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এক্সিট পোলের হিসেব সেভাবে না মিললেও অতীতে অনেক বিধানসভা নির্বাচনেই বড় বড় সমীক্ষা সংস্থার দাবি হুবহু মিলে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—৪ মে-র আগে বুথফেরত সমীক্ষা কি কোনও বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে? উত্তর মিলবে আগামীকাল সন্ধ্যা থেকেই।





