সোনারপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! নির্দল প্রার্থী রাজন্যার আঙুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর বিরুদ্ধে

ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মাটি। এবার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারের শেষ লগ্নে চরম উত্তেজনা ছড়াল। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে শংসাপত্র সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুললেন নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার। তাঁর দাবি, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডলের স্বামী শাহেনশা মণ্ডল ও তাঁর দলবল রাজন্যার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর হাতের আঙুল মুচকে ভেঙে দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ও ভয়াবহ অভিযোগ
রাজন্যার দাবি, জনৈক যুবক মার্চেন্ট নেভির পরীক্ষার ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য কাউন্সিলরের সই করা একটি শংসাপত্র আনতে গিয়েছিলেন। সোমবার ছিল আবেদনের শেষ দিন, কিন্তু কাউন্সিলর অফিস থেকে তাঁকে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে রাজন্যা ওই যুবককে নিয়ে কাউন্সিলর অফিসে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, শাহেনশা মণ্ডল আচমকাই ওই যুবকের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন রাজন্যা ও তাঁর সঙ্গীরা। রাজন্যার অভিযোগ, “আমার হাত মুচকে দেওয়া হয়েছে এবং ওড়না দিয়ে গলার ফাঁস লাগিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে।” ওই যুবককে একটি ক্লাবে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

পাল্টা তোপ তৃণমূলের: ‘রাজন্যাই উসকানি দিয়েছেন’
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি, রাজন্যা এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে ঢুকে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৃণমূলের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছিলেন তিনি। কাউন্সিলরের কথায়, “ওঁকে কে মেরেছে তা জানি না, তবে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের মহিলা কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন।”

রাজনৈতিক সমীকরণ ও পুলিশি তদন্ত
এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় শাহেনশা মণ্ডল-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন রাজন্যা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে আইএসএফ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইএসএফ নেতা অনির্বাণ তলাপাত্র বলেন, “সোনারপুরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।” ভোটের ঠিক আগে এই হামলা ও পাল্টা হামলায় এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহলদারি শুরু হয়েছে।