শুল্কের বোঝা সত্ত্বেও ট্রাম্পের মুখে ভারতের প্রশংসা; টানাপোড়েনের মধ্যেও কি মজবুত হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক?

লন্ডন সফরে গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতের প্রতি তার সম্পর্ক নিয়ে উষ্ণ মন্তব্য করেছেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারতের খুব কাছের, ভারতের প্রধানমন্ত্রীরও খুব কাছের।” সম্প্রতি মোদির ৭৫তম জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি প্রমাণ করে।

বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নরম সুর
ট্রাম্পের এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে। একই সঙ্গে, ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও থমকে গিয়েছিল।

তবে, সম্প্রতি ভারত, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। এই বৈঠকের পর থেকেই ভারতের প্রতি ট্রাম্পের সুর নরম হতে শুরু করে।

শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের যুক্তি
সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প অবশ্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর শুল্ক চাপানোর পক্ষে তার অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি বলেন, “বিষয়টা খুব সহজ, যদি তেলের দাম কমে যায়, তাহলে পুতিনের কাছে কোনো উপায় থাকবে না। তিনি যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য হবেন।” একই কারণে চীন ও ইউরোপীয় দেশগুলির ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমি যাদের জন্য লড়ছি (ভারত), তারাই যখন রাশিয়া থেকে তেল কেনে, তখন অন্য কিছু করতে হয়।” তার মতে, তেলের দাম কমিয়ে রাশিয়াকে একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য।

ভারত-পাক সংঘাত থামানোর দাবি
ট্রাম্প এই সাংবাদিক বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবারও ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ করেছি। এটা পুরো ব্যবসায়িক কারণে। আপনারা (ভারত ও পাকিস্তান) আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন।”

যদিও ভারত বারবার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে তৃতীয় কোনো দেশ মধ্যস্থতা করেনি। তবে ট্রাম্প তার এই দাবি বিভিন্ন সময়ে পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নরম সুর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে, বাণিজ্যিক বাধা সত্ত্বেও ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে সঠিক পথে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন আগ্রহী, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে তার কথায়।