১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বাংলার মসনদে এবার আসীন হতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল ধরাশায়ী হওয়ার পর এখন কোটি টাকার প্রশ্ন একটাই— কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? কার মাথায় উঠবে বিজয়ের মুকুট? এই জল্পনার অবসান ঘটাতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পা রাখছেন। তাঁর উপস্থিতিতেই নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে স্থির হবে বাংলার নয়া ভাগ্যবিধাতার নাম।
শাহের ‘মানদণ্ড’ এবং মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াই
নির্বাচনী প্রচারের সময়ই অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন ‘মাটির সন্তান’। তাঁর দেওয়া ৪টি প্রধান শর্ত হলো— মুখ্যমন্ত্রীকে হতে হবে বাংলার ভূমিপুত্র, বাংলায় শিক্ষিত, অনর্গল বাংলাভাষী এবং একনিষ্ঠ বিজেপি কর্মী। এই মাপকাঠিতে বর্তমানে ৫-৬ জন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত।
১. শুভেন্দু অধিকারী: অপ্রতিরোধ্য বিজয়ী সেনাপতি
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবার থেকে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে তিনি নিজেকে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এর ভবানীপুর— টানা দুবার নেত্রীকে হারিয়ে শুভেন্দুই এখন বিজেপির প্রধান বাজি। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তির মিশেল শাহের প্রথম পছন্দ হতে পারে।
২. শমীক ভট্টাচার্য: বুদ্ধিজীবী ও মার্জিত মুখ
শুভেন্দুর ঠিক পরেই চর্চায় রয়েছে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম। আরএসএস (RSS) এবং বিজেপি নেতৃত্বের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র শমীককে দলের ‘ভদ্রলোক ও বুদ্ধিজীবী মুখ’ হিসেবে দেখা হয়। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ এবং রাজ্যের শিক্ষিত মহলে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আগ্রাসনের বদলে সমন্বয়ের রাজনীতিতে শমীকই হতে পারেন শাহের তুরুপের তাস।
৩. দিলীপ ঘোষ: মাটি কামড়ানো লড়াকু নেতা
রাজ্যে বিজেপিকে শূন্য থেকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার কারিগর দিলীপ ঘোষ। খাঁটি বাঙালি মেজাজ এবং কর্মীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তাই তাঁর প্রধান শক্তি। দুঃসময়ে দলের হাল ধরা দিলীপকে মুখ্যমন্ত্রী করে বড় বার্তা দিতে পারে দিল্লি।
৪. সুকান্ত মজুমদার ও অগ্নিমিত্রা পল
অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে দৌড়ে টিকিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, বিজেপি যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে কোনও মহিলা মুখ আনতে চায়, তবে অগ্নিমিত্রা পল হতে পারেন বড় চমক। আরজি কর ইস্যু থেকে নারী সুরক্ষা— প্রতিটি বিষয়ে তিনি ময়দানে থেকে লড়াই করেছেন।
৫. উৎপল মহারাজ: বাংলার ‘যোগী’?
সবশেষে জল্পনায় রয়েছে এক ‘আনকোরা’ নাম— উৎপল মহারাজ। কালিয়াগঞ্জ থেকে বিপুল ভোটে জয়ী এই সন্ন্যাসী গেরুয়া শিবিরের অত্যন্ত পছন্দের। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচে বাংলাতেও কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে মসনদে বসিয়ে শাহ চমক দেবেন কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
অমিত শাহের ট্র্যাক রেকর্ড বলছে, তিনি অনেক সময় এমন নাম সামনে আনেন যা সংবাদমাধ্যমের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আজ রাতেই কি তেমন কোনও বড় চমক পেতে চলেছে বাংলা? নজর এখন বিবাদী বাগ আর রাজভবনের দিকে।





