শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে এবার সিআইডি! ময়নাতদন্তের আগেই মিলল ‘সুপারি কিলার’-এর অকাট্য প্রমাণ?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তদন্তে এসেছে একাধিক নাটকীয় মোড়। ঘটনার গুরুত্ব এবং স্পর্শকাতরতা বিচার করে ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশের সঙ্গে ময়দানে নেমেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্তভার পুরোপুরি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালেই আরজি কর হাসপাতাল মর্গে চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে। ময়নাতদন্তের সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খুঁটিয়ে দেখছেন ঠিক কত দূর থেকে এবং কোন অ্যাঙ্গেল থেকে গুলি চালানো হয়েছিল।

তদন্তের স্বার্থে এদিন সকালেই ঘটনাস্থল এবং চন্দ্রনাথের সেই রক্তাত গাড়িটি পরীক্ষা করে ফরেনসিক দল। গাড়ির সিটে জমাট বাঁধা রক্তের দাগ এবং কাঁচের ওপর বুলেটের আঘাতের ধরণ দেখে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত যে, ঘাতকরা অত্যন্ত শক্তিশালী মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। মৃতদেহের শরীরে থাকা বুলেটের ক্ষতচিহ্ন থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতেই স্পষ্ট হবে যে ঠিক কোন বোরের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছিল এবং ঘাতকরা পেশাদার কি না।

গোয়েন্দাদের তুরুপের তাস এখন ‘সুপারি কিলার’ তত্ত্ব। কেন এই তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে? তদন্তকারীরা তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, যেভাবে দোহরিয়ার মতো জনবহুল এলাকায় গাড়ি আটকে চারপাশ থেকে ঘিরে গুলি চালানো হয়েছে, তা দীর্ঘ সময়ের রেইকি বা পরিকল্পনা ছাড়া অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, নিশানায় ছিল চরম পেশাদারিত্ব। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে প্রাণঘাতী অঙ্গগুলোতে গুলি চালানো হয়েছে যাতে আক্রান্তের বাঁচার কোনও পথ না থাকে। তৃতীয়ত, হামলার পর পালানোর জন্য যে ভুয়ো নম্বর প্লেট ও রুট ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনও আনাড়ি অপরাধীর কাজ নয়।

ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও সিআইডি। ঘাতকদের সেই ‘নিশান’ গাড়িটির গতিবিধি ট্র্যাক করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত ডায়েরি ও তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে সিআইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি ব্যক্তিগত শত্রুতা—সব দিক খতিয়ে দেখছে লালবাজার ও ভবানী ভবন।