শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার বাস্তবায়ন! বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে। রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবার অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ নিল বিজেপি সরকার। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সরকারি তৎপরতায় এটা স্পষ্ট যে, রাজ্যে ‘এক দেশ, এক আইন’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর প্রক্রিয়া এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে।

শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, ‘‘এক দেশ, এক আইন—এই আদর্শ তো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিখিয়ে যাওয়া পথ। এটা বাস্তবায়িত হবেই, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কোনো শক্তিই আমাদের এই লক্ষ্য থেকে আটকাতে পারবে না।’’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পদ্ম শিবিরের অন্যতম প্রধান ইশতেহার ছিল এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারংবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবের রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।

আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও এক ঐতিহাসিক কড়া আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই বিষয়ে বিশেষ ইঙ্গিত দিয়েছেন। নতুন এই বিলে দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের শুধু জেল বা জরিমানাই নয়, বরং তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও সংস্থান রাখা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রাজ্যকে তছনছ করেছে, তাদের প্রাসাদতুল্য সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থে জনকল্যাণমুখী কাজ করা হবে।

ইতিমধ্যেই আগামী তিন মাসের পরিকল্পনা তৈরির জন্য বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শাসনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, UCC কার্যকর হলে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান নির্বিশেষে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিক একই আইনের আওতায় আসবেন, যা সামাজিক বিভাজন ও তোষণ রাজনীতি অবসানের বড় হাতিয়ার হতে পারে।

‘UCC’ ছাড়াও দুর্নীতি দমন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের এই কঠোর আইনি খসড়া বিরোধীদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘আমরা শুধু কথা দিই না, আমাদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’’ সোমবারের বিধানসভা অধিবেশন তাই হতে চলেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একাধারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং অন্যদিকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রবর্তন—এই দ্বিমুখী কৌশল রাজ্যকে এক নতুন দিশায় নিয়ে যেতে চলেছে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।