“ববি হাকিমের সই আছে,” বিস্ফোরক কাউন্সিলর! তারাতলার ঘটনায় পুরসভার OSD গ্রেফতার হতেই কোন পথে রাজনীতি?

তারাতলার ভয়াবহ গোডাউন ধসের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হলো প্রবল অস্বস্তি। এই বিপর্যয়ের জেরে সরাসরি দলের প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে ইস্তফা দিলেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। তাঁর এই পদত্যাগ শাসকদলের অন্দরে যে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। ইস্তফা দেওয়ার সময় বিশ্বরূপ দে বিস্ফোরকভাবে অভিযোগ করেন, তারাতলার ওই গোডাউনের নকশায় সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এই দলে থেকে যা ভুল করেছি, আগামী দিনে তার প্রায়শ্চিত্ত করব। ববি হাকিমের সই রয়েছে তারাতলার নকশায়, এমন অনেক ঘটনাই আছে। তাই আর নয়।”
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। বুধবারই কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ‘কালী’ নামক এক আধিকারিকের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। শুভেন্দুর দাবি ছিল, এই কালীকে গ্রেফতার করলেই দুর্নীতির সব যোগসাজশ প্রকাশ্যে চলে আসবে। সেইমতো লালবাজারের গোয়েন্দারা কালীচরণকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেন।
তদন্তের মাঝেই সুর চড়িয়েছেন বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। ডোমকলের এই বিধায়কের সাফ দাবি, ফিরহাদ হাকিম সবকিছু জানতেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফিরহাদ হাকিম যেন ‘অন্য’ তৃণমূল পরিচয় দিয়ে এই দায় এড়াতে না পারেন।” বিধায়কের মতে, তারাতলার এই হত্যাকাণ্ডের দায়ভার পুরোপুরি প্রাক্তন মেয়রের ওপর বর্তায় এবং তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
পিছিয়ে নেই রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি সরাসরি ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন। অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “আগের সরকারের সিট বা তদন্তের থেকে বর্তমান সিট আলাদা। এটি কেবল তদন্ত করবে না, তদন্তের ফল ও দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা বাংলার মানুষ জানতে পারবে।” তাঁর মতে, প্রাক্তন মেয়রকে জেরা করলেই তারাতলা কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
তারাতলার বিপর্যয়ে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর যেভাবে শাসকদলের একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র গুঞ্জন। দুর্নীতির অভিযোগে একদিকে যখন ওএসডি গ্রেফতার, অন্যদিকে দলের অন্দরে কাউন্সিলরের বিদ্রোহী সুর—এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের মতে, এটি কেবলমাত্র গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়, বরং এটি পুরসভার দুর্নীতির এক বিশাল কঙ্কালসার রূপ। প্রশাসন এই তদন্তকে কোন পরিণতিতে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।