শুধু গান নয়, যেন এক জীবন্ত ইতিহাস! কেন ‘নৌনিহাল’ সিনেমাকে করমুক্ত করেছিলেন ইন্দিরা?

ষাট ও সত্তর দশকে হিন্দি সংগীতের আকাশে ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল ছিলেন মহম্মদ রফি। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হতো গোটা দেশ। কেবল সাধারণ শ্রোতা নয়, রফির গানের ভক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও। তবে রফির একটি বিশেষ গান শুনে ইন্দিরা গান্ধী এমনভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যে, তা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল ১৯৬৭ সালের চলচ্চিত্র ‘নৌনিহাল’।

প্রখ্যাত প্রযোজক সাওয়ান কুমার তাক ছিলেন জওহরলাল নেহেরুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। ১৯৬৪ সালে নেহেরুর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই মহান নেতাকে উৎসর্গ করে একটি সিনেমা নির্মাণ করবেন। দীর্ঘ সাধনার পর তৈরি হয় ‘নৌনিহাল’। ছবির মূল কাহিনি ছিল রাজু নামের এক অনাথ শিশুকে নিয়ে, যে বিশ্বাস করত দেশের প্রধানমন্ত্রী তার আত্মীয়। এই আবেগঘন চিত্রনাট্যের জন্য গীতিকার কাইফি আজমি লিখেছিলেন এক মর্মস্পর্শী গান— ‘মেরি আওয়াজ শুনো’। এই গানে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য মহম্মদ রফিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।

ছবিটি মুক্তির আগে সাওয়ান কুমার তাক এটিকে করমুক্ত করার আবেদন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দপ্তরে যান। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি ছাড় পেতে হলে ছবিটি দেখাতে হতো। ইন্দিরা গান্ধী তখন কাজের চাপে ছবি দেখার সময় না পেয়ে সাওয়ান কুমারকে ছবির একটি গান শোনাতে বলেন। প্রযোজক টেপ রেকর্ডার চালু করতেই রফির সেই কিংবদন্তি কণ্ঠস্বর দপ্তরে ছড়িয়ে পড়ে— ‘মেরি আওয়াজ শুনো…’।

গানটির সুর আর রফির দরদি কণ্ঠ যেন সরাসরি ইন্দিরা গান্ধীর হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে। নিজের প্রয়াত বাবা জওহরলাল নেহেরুর স্মৃতিতে তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে, উপস্থিত সকলের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। গানটি শেষ হওয়ার আগেই তিনি সোজা নিজের কেবিনে চলে যান। উপস্থিত লোকজন ভেবেছিলেন হয়তো কোনো ভুল হয়েছে বা গানটি অপছন্দ হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সাওয়ান কুমার জানতে পারেন, ইন্দিরা গান্ধী ছবিটি দেখার আগেই এর গভীরতায় মুগ্ধ হয়ে ‘নৌনিহাল’-কে করমুক্ত ঘোষণা করেছেন। একটি গান কীভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের হৃদয় জয় করে পুরো সিনেমাকে প্রশাসনিক সুরক্ষা পাইয়ে দিয়েছিল, তা আজও বলিউডের অন্যতম রূপকথা হয়ে আছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy