শুধু কি মহুয়া বিতর্ক?-কল্যাণ ব্যানার্জির ইস্তফার নেপথ্যে উঠে আসছে একাধিক কারণ

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় দলের চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তার এই পদত্যাগের পেছনে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি জমে থাকা অভিমান কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। ইস্তফার পরপরই মহুয়া মৈত্র সম্পর্কে তার বিস্ফোরক মন্তব্যে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

কেন ইস্তফা?

লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফার কারণ হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা হারানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “নেত্রী আমার উপর আস্থা রাখতে পারেননি, তাই আমি ইস্তফা দিয়েছি।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু এটিই একমাত্র কারণ নয়। একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা কল্যাণের ইস্তফার একটি কারণ হতে পারে। যদিও কল্যাণ নিজে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার ইস্তফার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো বলেও দাবি করেছেন।

অভিষেকের সঙ্গে কথোপকথন

সূত্রের খবর, পদত্যাগের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন। কল্যাণ সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিষেক তাকে আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছেন। এরপর অভিষেক নিজে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। তবে এই কথোপকথনের পর কল্যাণ তার ইস্তফা প্রত্যাহার করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।

জমে থাকা আক্ষেপ

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে আসছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি লোকসভার সাংসদদের মধ্যে ‘সমন্বয়ের অভাব’ নিয়ে অনুযোগ করতেন এবং কোন কোন সাংসদ নিয়মিত সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন না, তা নিয়েও সরব হয়েছিলেন। সংসদে কোন বিষয়ে কে কথা বলবেন, সে বিষয়ে নেত্রী মমতা সঠিক তথ্য জানতেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এমনকি ‘অপারেশন সিঁদুর’ বিতর্ক চলাকালীন মহুয়া মৈত্র বললে তিনি বলবেন না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন।

মহুয়ার সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্ব

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রর মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এখন আর গোপন নেই। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে মহুয়া মৈত্র একজন সহ-সাংসদকে ‘শুয়োরের সঙ্গে তুলনা’ করার অভিযোগ এনে কল্যাণ তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এটি কেবল অবমাননাকর নয়, সাধারণ নাগরিক রীতির পরিপন্থী।” কল্যাণ কটাক্ষ করে মহুয়াকে ‘বড়লোকের বিটি লো’ বলেও সম্বোধন করেন।

সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে মহুয়ার মুখ দেখে তার দিন খারাপ যাবে বলে মন্তব্য করা এবং বৈঠক শেষে তার দিন সত্যিই খারাপ গিয়েছে বলে মন্তব্য করা থেকেই এই দ্বন্দ্বের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy