শিল্পকে বাঁচাতে গিয়ে বিপত্তি! ১৬ ফুটের কাঁসার থালার ওপর দেবী, নিরঞ্জনের সমস্যা মেটাতে এগিয়ে এল দমকল, মনখারাপ উদ্যোক্তাদের

এবারের দুর্গা পূজায় বিষ্ণুপুর দলমাদল সর্বজনীন উৎসব-এর প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব হয়ে উঠল এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। মণ্ডপেই প্রতিমা নিরঞ্জন করার জন্য ব্যবহার করা হলো দমকলের একটি ইঞ্জিন! এই দৃশ্য দেখতে হাজির হয়েছিলেন বহু কৌতূহলী মানুষ।
দলমাদল সর্বজনীনের এবারের থিম ছিল কাঁসা পিতল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা, যার নাম ছিল ‘দুর্গা এবার পেতল কাঁসায় অসুর যাবে যমের বাসায়’। সমস্যা শুরু হয় এই সুবিশাল থিমের কারণেই।
সুবিশাল প্রতিমার সমস্যা
মণ্ডপে নির্মিত প্রতিমাটির উচ্চতা ছিল প্রায় ২৪ ফুট। প্রতিমার কাঠামো ছিল অত্যন্ত অভিনব ও ভারী।
দেবী মহিষাসুরমর্দিনী মাটির প্রতিমাটি তৈরি হয়েছিল শিব ঠাকুরের কোলের মধ্যে রাখা ১৬ ফুটের একটি কাঁসার থালার ওপর।
পাশাপাশি, লক্ষ্মী ও সরস্বতী ১২ ফুটের এবং গণেশ ও কার্তিক ১০ ফুটের সুবিশাল কাঁসার থালার ওপর স্থাপন করা হয়েছিল।
এই বিপুল আকৃতির এবং ভারী প্রতিমা কোনো জলাশয়ে নিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন করা কার্যত অসম্ভব ছিল উদ্যোক্তাদের পক্ষে।
দমকলের ইঞ্জিনেই বিসর্জন
এই সমস্যা সমাধানের জন্য পুজো উদ্যোক্তারা এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা বিষ্ণুপুরের দমকল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এদিন বিষ্ণুপুরের দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং পাঁচজন দমকল কর্মী দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে মণ্ডপেই প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজটি সম্পন্ন করেন। ফায়ার ইঞ্জিনের সাহায্যে জল দিয়ে প্রতিমাকে মণ্ডপের ভিতরেই নিরঞ্জন করা হয়। এই ব্যতিক্রমী নিরঞ্জন পর্ব দেখতে সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। মায়ের বিদায় বেলায় পুজো উদ্যোক্তাদের মন খারাপ হলেও, পরিবেশবান্ধব ও অভিনব উপায়ে নিরঞ্জন সম্ভব হওয়ায় তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।