শিবাজি মহারাজকে নিয়ে বির্তকিত মন্তব্য! বাগেশ্বর বাবার ওপর মারাত্মক চটলেন রিতেশ দেশমুখ

মারাঠি যোদ্ধা তথা হিন্দু স্বরাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে নিয়ে বাগেশ্বর ধাম সরকারের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের তারকারাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে অভিনেতা রিতেশ দেশমুখের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে বিতর্কের গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু।

ঠিক কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী দাবি করেন যে, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ অনবরত যুদ্ধ ও সংঘাত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, পরিশ্রান্ত হয়ে মহারাজ তাঁর রাজমুকুট সমর্থ রামদাস স্বামীর চরণে অর্পণ করেন এবং তাঁকে রাজ্যভার সামলানোর অনুরোধ জানান। এই ইতিহাস-বিবর্জিত মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। মারাঠি সংস্কৃতি ও শিবভক্তদের দাবি, এটি মহারাজের শৌর্য ও বীরত্বের ইতিহাসকে খাটো করার এক অপচেষ্টা।

রিতেশ দেশমুখের গর্জন:
আসন্ন ছবি ‘রাজা শিবাজি’-তে ছত্রপতির ভূমিকায় অভিনয় করা রিতেশ দেশমুখ সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাঠি ভাষায় একটি আবেগঘন ও কড়া পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “যখন কেউ এসে আমাদের পূজনীয় দেবতার সম্বন্ধে নেতিবাচক কথা বলে, তখন একজন শিবভক্তের পক্ষে তা একেবারেই অসহনীয়। সহ্যাদ্রি পর্বতমালা যেমন অটল, শিবাজি মহারাজের নামও আগামী লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তেমনই টিকে থাকবে। তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখার নিষ্ফল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।” রিতেশ স্পষ্ট করে দেন যে, ইতিহাসের বিকৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বাগেশ্বর বাবার ক্ষমা প্রার্থনা:
বিতর্ক চরমে পৌঁছালে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ক্ষমা চান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাধুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আমি ওই উদাহরণ দিয়েছিলাম। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। তবুও যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। আমি শিবাজি মহারাজের আদর্শেই বিশ্বাস করি।”

উল্লেখ্য, আগামী ১লা মে রিতেশ দেশমুখের বহুপ্রতীক্ষিত ছবি ‘রাজা শিবাজি’ মুক্তি পেতে চলেছে। তার ঠিক আগেই এই বিতর্ক মহারাষ্ট্রের রাজনীতি ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।