২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে রাজনীতির ময়দান যখন সরগরম, তখন ভোটারদের মধ্যে এক নতুন কৌতূহল দেখা দিচ্ছে। মানুষ এখন তাঁদের প্রিয় নেতাদের শুধু জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে নয়, বরং তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখেও যাচাই করতে চাইছেন। ভারতের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীরা যে শুধু রাজনীতির প্যাঁচেই দক্ষ নন, বরং তাঁদের অনেকেই পড়াশোনায় তুখোড়—তাঁদের ডিগ্রির তালিকা দেখলেই বোঝা যায়।
১. মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী: ডঃ মোহন যাদব (সবচেয়ে শিক্ষিত)
শিক্ষাগত যোগ্যতার দৌড়ে আপাতত সবার শীর্ষে রয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। তাঁর ডিগ্রির বহর দেখে চোখ কপালে উঠতে পারে:
বি.এসসি ও এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)।
এর পাশাপাশি করেছেন এলএলবি (LLB) এবং ম্যানেজমেন্টে এমবিএ (MBA)।
এখানেই শেষ নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাঁর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রিও রয়েছে।
২. অসমের মুখ্যমন্ত্রী: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই উত্তর-পূর্ব ভারতের কান্ডারি হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও। গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর তিনি সরকারি আইন কলেজ থেকে আইন (LLB) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করেন।
৩. পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত জীবনও বৈচিত্র্যময়। তিনি যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে ইতিহাসে বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক ইতিহাসে এমএ করেছেন। এছাড়া শিক্ষকতার জন্য করেছেন বি.এড (B.Ed) এবং যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজ থেকে অর্জন করেছেন এলএলবি (LLB) ডিগ্রি।
৪. মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী: কনরাড সাংমা
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় শিক্ষিত। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানে মর্যাদাপূর্ণ হোয়ার্টন স্কুল (পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি) থেকে বিএ এবং লন্ডনের পার্ল কলেজ থেকে এমবিএ (MBA) ডিগ্রি অর্জন করেন।
৫. মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী: দেবেন্দ্র ফড়নবিশ
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের প্রশাসনিক দক্ষতার পেছনে রয়েছে তাঁর নিরেট শিক্ষাগত ভিত্তি। তিনি আইনশাস্ত্রে স্নাতক (Graduate in Law) হওয়ার পাশাপাশি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের বিশেষজ্ঞ।
কেন নেতাদের শিক্ষা আজ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষিত নেতারা নীতি নির্ধারণ এবং জটিল প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় অনেক বেশি দূরদর্শী হন। আজকের প্রজন্ম এমন নেতাদের পছন্দ করেন যারা আধুনিক বিশ্ব ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন।





