“দেশ উদ্ধার করতে হবে!”-ইভিএম বিভ্রাটে থমকালেন তৃণমূল বিধায়ক, শেষমেশ কী হলো?

বাংলায় দ্বিতীয় দফার মহারণে যখন হাই-ভোল্টেজ উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন খাস কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে পড়লেন টলিউড মেগাস্টার তথা বারাসাতের বিদায়ী বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। সস্ত্রীক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ইভিএম (EVM) বিভ্রাটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো তাঁকে।

ইভিএম বিকল, কিন্তু মেজাজ হারালেন না ‘দীপক’

বুধবার সকালে চারুচন্দ্র কলেজে সস্ত্রীক ভোট দিতে পৌঁছান চিরঞ্জিৎ। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ইভিএম মেশিন কাজ করছে না। একজন সাধারণ ভোটারের মতোই তাঁকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে যান্ত্রিক সমস্যায় বিন্দুমাত্র বিরক্ত হননি তিনি। পেশাদার ভঙ্গিতে চিরঞ্জিৎ বলেন:

“যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে। আমি তো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র, তাই টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কিছুটা ধারণা আছে। এটা ঠিক হতে একটু সময় লাগবেই। ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব, দেশ উদ্ধার করতে হবে তো! আমি একটু পরেই এসে ভোট দিয়ে যাব।”

শেষমেশ জয়ী গণতন্ত্র

মেশিন বিকল হওয়ায় প্রথমে ফিরে গেলেও কিছুক্ষণ পরেই খবর পান ইভিএম সচল হয়েছে। এরপরেই দ্রুত কেন্দ্রে ফিরে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। আজতক বাংলাকে অভিনেতা জানান, দ্বিতীয়বার গিয়ে তিনি অত্যন্ত নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়ে এসেছেন।

২৬-এর ভোটযুদ্ধে কেন নেই চিরঞ্জিৎ?

২০১১ সালে রাজ্যের পালাবদলের সূচনালগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি হিসেবে বারাসাত কেন্দ্রে টানা তিনবার জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। সিপিএম প্রার্থীদের হারিয়ে নিজেকে দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে চতুর্থবার প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব এলেও সসম্মানে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন এই তারকা বিধায়ক।

যদিও এবার তিনি নিজে প্রার্থী নন, তবুও সচেতন নাগরিক হিসেবে সকাল সকাল বুথে পৌঁছে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—রাজনীতিতে থাকুন বা না থাকুন, গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি সবসময় অগ্রণী।