ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেই ইতিহাস! জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ভারতের দুর্দান্ত সিরিজ জয়ে কোন অলরাউন্ডারের রেকর্ড ভাঙল ঝড়?

শ্রেয়স আইয়ারের সুযোগ্য নেতৃত্বে শনিবারই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে উদীয়মান টিম ইন্ডিয়া। নির্ধারিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ নিজেদের মুঠোয় পুরে নিল। শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের প্রধান নায়ক হিসেবে আলো কেড়ে নিয়েছিলেন বিস্ফোরক ঈশান কিষাণ ও তিলক বর্মা। তবে শুধু ব্যাটে নয়, এদিন বল হাতেও রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। কেবল নজর কাড়াই নয়, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সর্বাধিক তিন উইকেট শিকার করে বল হাতে এক অনন্য নজিরও গড়ে ফেললেন এই তরুণ বাঁ-হাতি স্পিনার।
এদিন প্রথমে ব্যাট করে ভারত জিম্বাবোয়ের সামনে জয়ের জন্য বিশাল এক পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যমাত্রা অর্থাৎ ২২০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। এই বিশাল রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবোয়ের গোটা ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়। মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন অভিষেক শর্মা। আর এর সঙ্গেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতীয় ওপেনার হিসেবে সর্বকালের সেরা বোলিং ফিগার তুলে ধরে এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়লেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। তাঁর এই মারণাত্মক বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই টিম ইন্ডিয়া জিম্বাবোয়ে’কে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দীর্ঘ ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে।
বল হাতে এই অসাধারণ কীর্তি গড়ার মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র ভিনু মানকড় এবং রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে একাসনে বসে পড়লেন অভিষেক শর্মা। উল্লেখ্য, এর আগে ওপেনার হিসেবে টেস্ট এবং ওডিআই ক্রিকেটে সেরা বোলিং ফিগার গড়ার এই নজির ছিল কেবল উপরোক্ত দু’জনের নামেই। সুদূর ১৯৫২ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫২ রানে ৮ উইকেট শিকার করেছিলেন কিংবদন্তি ওপেনার ভিনু মানকড়, যা আজও ভারতীয় ক্রিকেটে এক অটুট রেকর্ড। এর অনেক বছর পর ১৯৯১ সালে ওডিআই ক্রিকেটে বল হাতে এই বিরল নজির গড়েছিলেন প্রাক্তন অলরাউন্ডার রবি শাস্ত্রী। সেবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি স্মরণীয় ম্যাচে মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
তবে বল হাতে অনন্য নজির গড়ার দিনে ব্যাট হাতে অবশ্য একেবারেই ভালো সময় কাটেনি ওপেনার অভিষেকের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রান করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত্র ৮ রান করেই তাঁকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘায়িত হয়নি আর এক ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর ইনিংসও। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি হাঁকানো এই কিশোর ক্রিকেটার দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ২০ রান করেই আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে ওপেনারদের ব্যর্থতা ঢাকতে মিডল অর্ডারে ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিষাণ ও উদীয়মান তারকা তিলক বর্মা। ঈশানের বিধ্বংসী ৪৪ বলে ৮১ রান এবং তিলকের অপরাজিত ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সৌজন্যে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে বিশাল ২১৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জিম্বাবোয়ে এবং মাত্র ১২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। অভিষেকের ৩ উইকেটের পাশাপাশি এই ম্যাচে ২ উইকেট তুলে নিয়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপহার দেন পেসার যশ ঠাকুর। এছাড়া নিখুঁত বোলিং করে জোড়া উইকেট শিকার করেন প্রিন্স যাদব। পাশাপাশি একটি করে উইকেট তুলে নেন স্পিনার রবি বিষ্ণোই, অলরাউন্ডার শিবম দুবে এবং তিলক বর্মা। এই বিশাল জয়ের ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টিম ইন্ডিয়া এখন রবিবারের সিরিজের তৃতীয় তথা অন্তিম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় রয়েছে।