শাহের সভার কর্মীদের হাতেই ভেঙেছিল বিদ্যাসাগরের মূর্তি? পুরোনো বিতর্কে ঘি ঢেলে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিদ্যাসাগর কলেজে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল বারবার বিজেপিকে ‘বাঙালি বিরোধী’ দল হিসেবে তুলে ধরেছে। সামনে আসছে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন, এই অবস্থায় ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন বিদ্যাসাগর।
শুক্রবার শহর কলকাতায় পুজো উদ্বোধনে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি যখন কালীঘাট অঞ্চলে তাঁর কর্মসূচি সারবেন, ঠিক সেই সময় উত্তর কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মূর্তি ভাঙা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আবহে বিজেপির মিছিলে অশান্তির জেরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল সরাসরি অভিযোগ করে, বিজেপির মিছিল থেকেই ওই মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তাল সৃষ্টি করেছিল।
অভিষেকের কড়া কটাক্ষ: ঘটনার এক বছর পর, ২০২০ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করলে, অভিষেক কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “যে অমিত শাহর সভায় যোগ দিতে আসা বিজেপির কর্মী সমর্থকরা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিলেন, তাঁর এই ধরনের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন বিদ্রুপের সমান।”
মমতারও তোপ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্বরাও তাদের রাজনৈতিক সমাবেশে ও বক্তৃতায় মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ বারবার টেনে এনেছেন।
একই দিনে দুই নেতার কর্মসূচি
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মবার্ষিকীতে এই দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিষেকের কর্মসূচি: দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যাসাগর কলেজে যাবেন এবং মূর্তিতে মাল্যদান করবেন।
অমিত শাহের উপস্থিতি: এই সময়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শহরে উপস্থিত থাকবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মূর্তি ভাঙার ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও, বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল। আর এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপিকে বাঙালি বিরোধী দল হিসাবে তকমা দেওয়ার কাজ ত্বরাণ্বিত করেছিল তৃণমূল। পুজোর মরসুমে অমিত শাহের সফরের দিনে অভিষেকের এই কর্মসূচি ফের একবার সেই পুরোনো বিতর্কে ঘি ঢালল বলেই মনে করা হচ্ছে।